বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মাদক প্রতিরোধে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদক প্রতিরোধে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর

মাদক প্রতিরোধে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ইয়ুথ ভয়েস ফর এভিডেন্স বেসড প্রিভেনশন: প্রিভেন্ট, ডোন্ট প্রোমোট’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোর ও তরুণ বয়সেই মাদকের প্রতি কৌতূহল ও ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই বয়সেই সঠিক তথ্য, জীবনদক্ষতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি।

আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ও সাইকোথেরাপি এবং সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্যসচিব ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।

বক্তারা বলেন, মাদক প্রতিরোধে প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণভিত্তিক কৌশল গ্রহণ জরুরি। মাদক কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি সমাজ ও আগামী প্রজন্মের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।


বিজ্ঞাপন


তাঁরা আরও বলেন, মাদকাসক্তি নিরসনে শুধু চিকিৎসা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সহজলভ্য এবং তরুণবান্ধব করা প্রয়োজন। মাদকের সহজলভ্যতা কমানো ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সমন্বিত অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবাধিকারসম্মত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Seminar

সেমিনারে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের জ্যেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানী রাখী গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা।

আলোচনায় মাদকের দিকে তরুণদের ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট, সহপাঠীদের নেতিবাচক প্রভাব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কথা তুলে ধরা হয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবারকে প্রতিরোধের প্রথম স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা প্রণয়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

এ সময় তরুণরা ইয়ুথ ডিক্লিয়ারেশন হস্তান্তর করেন। এতে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমের সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

এমআইকে/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর