বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

৩ মাসে সড়কে প্রাণ গেল ২৩১ শিশু-কিশোরের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

৩ মাসে সড়কে প্রাণ গেল ২৩১ শিশু-কিশোরের
৩ মাসে সড়কে দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৩১ শিশু-কিশোর।

চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—প্রথম তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩১ শিশু-কিশোর (১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী) নিহত হয়েছে।

সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন আরার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

এতে জানানো হয়, ১১টি জাতীয় দৈনিক, ১৩টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণে শিশুরা সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগজনক মাত্রায় হতাহত হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৪১ জন (১৭.৭৪ শতাংশ), ৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৮৬ জন (৩৭.২২ শতাংশ) এবং ১৩ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ১০৪ জন (৪৫.০২ শতাংশ)।


বিজ্ঞাপন


বিশ্লেষণে সংস্থাটি আরও জানায়, বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালক/হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে ১১৩ শিশু (৪৮.৯১ শতাংশ) এবং পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১৮ শিশু (৫১.০৮ শতাংশ)।

দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনা পর্যালোচনায় সেবা ফাউন্ডেশন বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় নিহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা। ঘরের দরজা খুললেই সড়ক—এমন অবস্থা। এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না। ফলে যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের কোনো নিয়মনীতি জানে না। এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমাদের শিশুরা নিহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। এটি অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।

শিশু পথচারীদের চাপা বা ধাক্কা দেওয়া যানবাহনের চিত্র:

  • বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৪ শিশু (৩৭.২৮ শতাংশ)
  • প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১ শিশু (৯.৩২ শতাংশ)
  • থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৯ শিশু (৪১.৫২ শতাংশ)
  • বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১৪ শিশু (১১.৮৬ শতাংশ)

শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন

শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ৫২ শিশু (২২.৫১ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ৮৫ শিশু (৩৬.৭৯ শতাংশ), গ্রামীণ সড়কে ৫৬ শিশু (২৪.২৪ শতাংশ) এবং শহরের সড়কে ৩৮ শিশু (১৬.৪৫ শতাংশ) নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৬টি (২.৫৯ শতাংশ), সকালে ৬১টি (২৬.৪০ শতাংশ), দুপুরে ৬৮টি (২৯.৪৩ শতাংশ), বিকেলে ৫৭টি (২৪.৬৭ শতাংশ), সন্ধ্যায় ২২টি (৯.৫২ শতাংশ) এবং রাতে ১৭টি (৭.৩৫ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ:

  • দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশুবান্ধব না হওয়া
  • সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাব
  • পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া
  • অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের মাধ্যমে যানবাহন চালানো
  • দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট
  • আহত শিশুদের চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা

এএম/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর