মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি রূপান্তরে বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি রূপান্তরে বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।

তরুণ প্রজন্মকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি রূপান্তর এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ভাবনায় দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর জ্ঞান নয়, বাস্তবসম্মত ও প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জন জরুরি।
 
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, টেকসই জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তা এবং বহুমাত্রিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।


বিজ্ঞাপন


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। 

তিনি বলেন, ২০০৭-০৮ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর মোট লোকসান প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। ভর্তুকি দেওয়ার পরও বিপিডিবি’র প্রকৃত নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা, যা জ্বালানি খাতে টেকসই রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিটি ব্যাংকের চিফ ইকোনোমিস্ট ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার আশানুর রহমান, পাওয়ার সেলের উপ-পরিচালক সেলিম উল্লাহ খান, ডিরেক্ট রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন টু বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিনা দিলশাদ এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম। 

বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সময়ের দাবি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞান, উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

আয়োজকরা জানান, ২০২৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ১৫০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই অলিম্পিয়াডের যাত্রা শুরু হয়। 

এর ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ দেশের ১৪৭টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। 

তিন ধাপের বাছাই পর্ব শেষে সেরা ৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের চূড়ান্ত পর্ব।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অলিম্পিয়াডে সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে একশনএইড, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি), সেন্টার ফর রিনিউএবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড, ল-ইয়ার্স ফর এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, রি-গ্লোবাল, জেট-নেট বাংলাদেশ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ প্রায় ৩২টি সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর