তামাকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়তে তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন আকারে পাস করা জরুরি। তামাক নিয়ন্ত্রণে তরুণদের এই দাবি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আগামী অর্থ বছরের বাজেটে তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বৃদ্ধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে তামাকপণ্য শিশু-কিশোরদের নাগালের বাইরে চলে যায়। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের ১০০ গজের ভিতরে কেউ তামাকপণ্য বিক্রি না করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।
ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবনা অনুযায়ী তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব, যা চলতি অর্থ বছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
ইকবাল মাসুদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশে তামাকের ব্যবহার কমানো না গেলে দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও এফসিটিসি বাস্তবায়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ অবিকৃতভাবে সংসদে পাস করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় বক্তারা তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে ই-সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা যুক্ত করে সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিল আকারে পেশ ও দ্রুত আইন হিসেবে পাসের দাবি জানান।
মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম জানান, দেশে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে, ফলে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত দৈনিক প্রায় ৫৪৬ জন মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করছে। পাশাপাশি তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তরুণদের তামাক থেকে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের মধ্যম ও নিম্ন স্তরকে একীভূত করে ১০ শলাকা প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা এবং সব স্তরের প্যাকেটের প্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে।
তিনি জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ পাস করলে এই ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। প্রস্তাবিত তামাক কর সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ তরুণ জনগোষ্ঠির অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এবং সদস্য তাসনিম হাসান আবিরসহ আরও অনেকে।
এমআইকে/এআর

