বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত সপ্তাহ না যেতেই আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল এর সামনে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়ক থেকে শুরু করে আশপাশের ফুটপাতজুড়ে বসেছে অস্থায়ী দোকানপাট। ফল, পানি, খাবার, ডাব, ভ্রাম্যমাণ হোটেল, পোশাকসহ নানা ধরনের পণ্যের দোকান সাজিয়ে বসেছেন হকাররা।
বিজ্ঞাপন
অনেক জায়গায় ফুটপাত সম্পূর্ণ দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত পথচারীদের অভিযোগ, এ ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যে হলেও তা টেকসই হয় না। কয়েকদিন কঠোরতা থাকলেও পরে নজরদারির অভাবে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে সবকিছু। তাদের মতে, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, জরুরি চিকিৎসা নিতে এসে এমনিতেই তারা চাপে থাকেন। এর মধ্যে ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ার নিয়ে রোগী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
একাধিক হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জীবিকার তাগিদেই তারা আবার ফুটপাতে ফিরে এসেছেন। তাদের দাবি, বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালালে তারা বাধ্য হয়ে আবার একই জায়গায় বসবেন। তারা স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: পুলিশি কড়াকড়ি ‘শিথিলের’ অপেক্ষায় হকাররা
এ বিষয়ে পথচারী রাশেদ মাহমুদ বলেন, উচ্ছেদ অভিযান হলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাই। কিন্তু কয়েকদিন পরই সব আগের মতো হয়ে যায়। এতে মনে হয়, এসব অভিযান শুধু দেখানোর জন্যই করা হয়, স্থায়ী কোনো সমাধান নেই।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন শারমিন আক্তার বলেন, আমরা দূর থেকে রোগী নিয়ে এসেছি চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখি ফুটপাতে হাঁটার মতো জায়গাও নেই। তবে ফুটপাতের দোকানের কারণে অনেক কিছু হাতের নাগালেই পাওয়া যায়।
স্থানীয় দোকানদার আব্দুল করিম বলেন, হকারদের কারণে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার রাস্তা-ঘাটেও যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি করত, তাহলে হয়তো এই সমস্যা হতো না।
অন্যদিকে এক হকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা কেউ শখ করে এখানে বসি না। পেটের দায়ে বসতে হয়। উচ্ছেদ করলে আমরা কিছুদিন অন্যত্র থাকি, কিন্তু কাজ না থাকলে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হই। আমাদের জন্য যদি নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া ছাড়া আমরা কোথায় যাব? আমি এখানে প্রায় ৫ বছর ধরে দোকান করি।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল এর সামনের পুরো এলাকা থেকে হকারদের সরিয়ে দিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়। ওই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন স্থানের ৫১ জন হকারকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় ।
এম/এআরএম

