সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দোসর সাংবাদিকদের বিচার না হলে ‘মার্চ টু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

দোসর সাংবাদিকদের বিচার না হলে ‘মার্চ টু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ ঘোষণা

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার না হলে ‘মার্চ টু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাগ্রত জুলাই। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে শহিদ ওসমান হাদি চত্বরে (শাহবাগ জাদুঘরের সামনে) আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এই ঘোষণা দেন।


বিজ্ঞাপন


জাগ্রত জুলাইয়ের সভাপতি মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো দখলদারত্ব ও বিকৃতির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। আওয়ামী দুঃশাসনের সময় দীর্ঘ ১৭ বছরে গণমাধ্যমে যে পরিমাণ তথ্য সন্ত্রাস দেখা গেছে, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে—সেই প্রশ্নই আজকের মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় গণমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। বিগত সময়ে ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় একটি অপ-সাংবাদিকতার সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়, যারা সাংবাদিকতার নামে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এই চক্র গণমাধ্যমকে জনগণের কণ্ঠস্বর থেকে সরিয়ে ক্ষমতার প্রচারযন্ত্রে পরিণত করেছে। তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চালানো হয়েছে নগ্ন ‘তথ্য সন্ত্রাস’। সত্যকে চাপা দেওয়া হয়েছে, মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং ভিন্নমতকে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে।

মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, যারা সত্য বলেছে, তারা হয়রানি, মামলা, চাকরি হারানো, এমনকি হত্যার হুমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার আবারও পুরোনো তথ্য সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করছে কি না, তা জাতি জানতে চায়। অপ-সাংবাদিকতার নেপথ্যের অনেকেই এখনও গণমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। তারা আবারও সুযোগের অপেক্ষায়—গণমাধ্যম দখল করতে, মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে। এই বাস্তবতা অস্বীকারের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যার পর আনিস আলমগীর যে মন্তব্য করেছিলেন, তা ঘৃণিত। সেই আনিস আলমগীরকে জামিন করিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানকে। আনিস আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করেছে। তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা জাতির জন্য লজ্জাজনক।


বিজ্ঞাপন


মুন্সি বোরহান মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, গণমাধ্যম কোনো রাজনৈতিক দলের দাস নয় এবং হবে না। সাংবাদিকতা কোনো প্রোপাগান্ডা মেশিন নয়; এটি সত্য বলার সংগ্রাম। যারা এই পেশাকে বিক্রি করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে। আরও কয়েক ডজন তথাকথিত সাংবাদিকতার আড়ালে তথ্য সন্ত্রাসী রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে জাগ্রত জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মার্চ করবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সাংবাদিকদের স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হবে।

জাগ্রত জুলাইয়ের ব্রিফিং থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—

১. অপ-সাংবাদিকতা ও তথ্য সন্ত্রাসে জড়িত সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে জবাবদিহি ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
২. গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের সব পথ বন্ধ করতে হবে।
৩. সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. গণমাধ্যমের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দখলদার ও স্বার্থান্বেষী চক্রকে অপসারণ করতে হবে।
৫. প্রকৃত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি শামিম রেজা, কবি মইন মুনাতাছির, কবি নোমান সাদিক, মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, আহত জুলাই যোদ্ধা ও সংগঠক বাবু এমদাদসহ জাগ্রত জুলাইয়ের নেতৃবৃন্দ।

এএইচ/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর