রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যে এমপি মনিরুলের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যে এমপি মনিরুলের ক্ষোভ
এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বক্তব্যকে আগের সরকারের মতো দাবি করে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল)  জাতীয় সংসদে ৭১ বিধির জরুরি জনগুরুত্ব সম্পন্ন বিষয়ের নোটিশের জবাবে মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, টাকা লুণ্ঠনকারীরা যা দিয়েছেন মন্ত্রী সেটাই বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি। 


বিজ্ঞাপন


এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগ স্থলের অবৈধ দানবীয় বেরিকেট স্থাপন, টমছম ব্রিজসহ ৭টি স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণ ও সার্ভিসলেন নির্মিত না হওয়ায় এই স্থানটি মরণফাঁদ ও তার প্রতিকারের বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাজেট না বাড়িয়ে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বাদ দিয়ে সেখানে পূর্তকাজ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা বলেন। একই সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীতকরণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পদুয়ার বাজারের ইউলুপকে ইন্টারসেকশনের অধীনে আরো দুটি আন্ডারপাসসহ মোট ৫টি আন্ডারপাস নির্মাণ হবে। এতে করে সমস্যার সমাধান হবে।

মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে সরকার দলের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এই বক্তব্যে যে কোনো সময়ের চেয়ে সব চেয়ে বেশি হতাশ হলাম। আওয়ামী লীগের সময় যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে-মন্ত্রী সাহেব সেটা দিয়েছেন। আমি প্রশ্ন ৭০০ কোটির স্থলে ১৫০০ কোটি খরচ হয়েছে শুনেছি। আন্ডারপাস কোথায় গেল? ওভারপাস কোথায় গেল?  এবং অনুমোদিত ওভারপাস কেন হলো না? আরেকটি রাস্তা করতে বেরিকেট নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হলো! ২০১৪ সালের কুত্তা মার্কা নির্বাচনের সময়ে। চৌদ্দসাল থেকে এত লোক মারা গেল একজন লোকেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলো না কেন?

তিনি বলেন, মন্ত্রী সাহেব বলেছেন আন্ডারপাস হবে। ওভার পাস হবে। এই রবীন্দ্র সঙ্গীত বহু শুনেছি। মাননীয় স্পিকার আমাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে মরতে দিন। উনার প্রতিটি কথা… সচিবরা যা বলে দিয়েছে। যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে.. তারা যা দিয়েছেন সেটাই উনি (মন্ত্রী) বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি। মাইক ছাড়াই কোনো একজন এমপিকে বাঘের বাচ্চা বলতে শোনা গেছে।

জবাবে সড়ক মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি আগে থেকেই বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। আমরা সেখানে কেবলমাত্র নকশা সম্প্রসারণ ও বাজেট সমন্বয় করে আমরা কাজ করতে পারছি। এখন ১০ লেন করার ক্ষেত্রে যে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে সেখানেই কিন্তু পদুয়া বাজার ওই অঞ্চলের দুর্ঘটনা, যানবাহন চলার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, ইন্টারসেকশনগুলো অধিকসংখ্যক যানবাহন ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম হয় নতুন পরিকল্পনায় সেটা রয়েছে। আগের সরকারের আমলে যে প্রকল্প হয়েছিল তা যতটুকু সংশোধন করা সম্ভব আমরা তা করছি। এর বেশি সম্ভব হচ্ছে না। সরকার নতুন এসেছে। নিশ্চয়ই মাননীয় সংসদ সদস্য আমাকে জ্ঞাত করেছেন। আমি এ বিষয়ে সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষনিকভাবে পাঠিয়ে যতটুকু পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব তা নিয়েছি। এতে মাননীয় সংসদ সদস্য দৃশ্যমান কিছু দেখতে পারেন।

এই পদক্ষেপে ওই সংসদ সদস্যের সমস্যার সমাধান হবে কী না সেই প্রশ্ন করেন স্পিকার। জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, আংশিক হবে।

এমএইচএইচ/এআরএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর