প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি নতুন করে আরও বহু আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ মো. আবদুল মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে অষ্টম দিন সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিজ্ঞাপন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসকল্পে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশেষ পদক্ষেপ
ক) বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকায় ৯০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে সারাদেশে ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১২২টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
খ) দুর্যোগকালীন সময়ে সহজে ও দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য দেশব্যাপী ১২,২৪৫ (বারো হাজার দুইশত পঁয়তাল্লিশ) টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ২০৩৬ (দুই হাজার ছত্রিশ) টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬৭৮৮ (ছয় হাজার সাতশত আটাশি) কি. মি. এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরোও ১০০০ (এক হাজার) কি. মি. রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
গ) দেশের ১২টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি উদ্ধারকার্য ব্যবহারের জন্য টেলিকমিউনকেশন ইকুইপমেন্ট, ফায়ার ফাইটং ইকুইপমেন্ট, রেডিও সেট, ১২টি রেসকিউ বোট এবং ৪১৩টি শ্যালো ওয়াটার রিসোর্চ বোট ক্রয় করা হবে।
ঘ) অন্যদিকে, ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবেলায় ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটর্ফম ল্যাডার ক্রয়পূর্বক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ৩টি ফর্কলিফ্ট, ২০ টনের ৩টি ডোজার, ৪৮ টনের ০৩টি ডোজার আমর্ড ফোর্সেস ডিভিশনকে প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধারকার্যের জন্য আরও অগ্নিনির্বাক সরঞ্জামাদি, তাবু, এয়ার বোট, স্পিড বোট, ইমারজেন্সি রেসপন্স ভেহিক্যাল, স্যার্চ এন্ড রেসকিউ ইকুইপমেন্ট, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
বিইউ/এআরএম

