শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ২২ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযোগপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি : ২২ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযোগপত্র

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ভবনের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর মালিকসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সাতটি ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেন।


বিজ্ঞাপন


তবে আসামিদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। আর দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এ তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাইয়ের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানার স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ। 

তদন্তে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললেও মৃত্যুবরণ করায় ভবনের স্পেস মালিক এ কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া মো. আনোয়ার হোসেন সুমন ও শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করেছেন। বৈধ অনুমোদন না নিয়ে এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক ওভেন ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন আগুনে পুড়ে মারা যান।

ওই দিন রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত হন। আহত হন ১১ জন। জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।

ঘটনার পরদিন ১ মার্চ পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করে। মামলায় অবহেলা, অসাবধানতা, বেপরোয়া ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজের মাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অগ্নিদগ্ধ ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধের মাধ্যমে মৃত্যু ও ক্ষতি সাধনের অভিযোগ আনা হয়।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর