সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর আসন্ন পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের প্রচেষ্টামূলক বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বুধবার (১ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।
বিবৃতিতে আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত তার বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বলে আমরা মনে করি। এছাড়া আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে পার্থক্য নেই বলে তার দাবিটিও অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর।
বিজ্ঞাপন
হেফাজতে ইসলাম মহাসচিব বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকবেন না। বরং বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলমানদের স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই এদেশের জাতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্রকোরক হওয়াটা ন্যায্য।
আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাবি চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই এটির নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ার পাপেট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরে এদেশের হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পূর্বের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করে।
গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরকার ঢাবি চারুকলার কালচারাল ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবের আদি ও আসল নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে আনে। গণঅভ্যুত্থানের সরকার চলে যাওয়ায় সেই কালচারাল ফ্যাসিস্টরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা। এরাই অতীতে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মরহুম খালেদা জিয়ার ‘অশুভ মূর্তি’ বানিয়ে নোংরা রাজনীতি করেছিল।
সাজেদুর রহমান বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিরোধিতা বা আপত্তি করিনি। কারণ আমরা সাম্প্রদায়িকতা লালন করি না। কিন্তু আমাদের ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে যারা আবারও সুযোগ করে দিতে চাইবে, আমরা জুলাইর ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ। -বিজ্ঞপ্তি
বিজ্ঞাপন
ক.ম/

