মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

সাংবাদিকদের আয়কর দায়মুক্তির দাবি নোয়াবের

নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সাংবাদিকদের আয়কর দায়মুক্তির দাবি নোয়াবের
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় নোয়াব নেতারা। ছবি: সংগঠনের সৌজন্যে

সংবাদপত্র খাতের চলমান আর্থিক চাপ মোকাবিলায় কর্মীদের আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানের দায়মুক্তি, করপোরেট কর কমানো এবং নিউজপ্রিন্টের ওপর আরোপিত শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব)।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। 


বিজ্ঞাপন


নোয়াব সভাপতি বলেন, আয়কর আইন ২০২৩-এর ৮৬ ধারা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা নিজের আয়কর নিজেরাই পরিশোধ করেন। কিন্তু ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী সংবাদপত্র কর্মীদের আয়কর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়, যা অন্য খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এ ধরনের বৈষম্যমূলক বিধান থাকা উচিত নয়।  

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ওয়েজ বোর্ডের আদেশে মালিকপক্ষ আয়কর দেবে—এমন একটি প্রচলন থাকলেও বাস্তবে কর্মীদের নিজস্ব আয় থেকেই কর পরিশোধ করা স্বাভাবিক নিয়ম হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে নতুন ওয়েজ বোর্ড হলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হবে; এতে বেতন কাঠামোতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

একই আলোচনায় নোয়াব সভাপতি বলেন, দেশের অনেক রফতানিমুখী বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্প বর্তমানে ১০ থেকে ১২ শতাংশ করপোরেট কর সুবিধা পেলেও সংবাদপত্র শিল্প সে সুবিধা পাচ্ছে না, তাই তিনি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সংবাদপত্র শিল্পের করপোরেট কর হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান।   

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, করপোরেট করের হার বাড়বে না—এমন একটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব হলেও রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার কারণে তা কমানো যাবে কি না এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। 


বিজ্ঞাপন


এছাড়া নোয়াব জানায়, নিউজপ্রিন্টের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে শিল্পটি বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে; বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ এআইটি এবং ৭.৫ শতাংশ এটিভি দিতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়সহ ল্যান্ডেড কস্ট প্রায় ১৩০ থেকে ১৩২ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়াচ্ছে; এ পরিস্থিতিতে নিউজপ্রিন্টের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কিছু যৌক্তিক বিষয় রয়েছে এবং এগুলো বাজেট টিমকে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হবে। 

এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর