মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ডিএফপির ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ, জড়িতদের গ্রেফতার দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ডিএফপির ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ, জড়িতদের গ্রেফতার দাবি

চলচিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানের ওপর হামলা এবং হাবিবুল্লাহ কাহার কলেজ ছাত্রদলের উপর দায় চাপানোর প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন মশিউর রহমানের ভাই আতিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আতিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমানের মৌখিক নির্দেশে চলচিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) জনৈক মুশফিকুর রহমান জোহানকে কাজ দেন। যদিও এর কার্যাদেশ ছিল তার বড় ভাই, ডিএফপিতে কর্মরত ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানের নামে। সেই কারণে যাবতীয় দায়ভার তার ওপর বর্তায়।

আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, মুশফিকুর রহমান জোহান নিজেকে কখনও সমন্বয়ক, সহ-সমন্বয়ক বা উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিত এবং ডকুমেন্টারিটি দায়সারাভাবে নির্মাণ করেছিল, যা কার্যাদেশের সঙ্গে কোনো মিল রাখে না।

তিনি আরও জানান, জোহান বিলের অধিকাংশ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু ভিডিও ডকুমেন্টরি বিল সংক্রান্ত উপকরণ যথাযথভাবে সরবরাহ করেননি। সংরক্ষণ করা ছিল কার্যাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক। এ নিয়ে মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কয়েক দফা মিটিং হয়। গত সোমবারও তার সঙ্গে এ বিষয়ে মহাপরিচালকের মিটিং ছিল, কিন্তু সরকারি কাজে ডিজি ব্যস্ত থাকায় মিটিং আয়োজন কিছুটা বিলম্বিত হয়। এ বিষয়টি মেনে নিতে অস্বীকার করেন ডকুমেন্টারি নির্মাণকারী মুশফিকুর রহমান জোহান।

সংবাদে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ছয়টায় মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে মিটিং শুরু হলে জোহান উত্তেজিত হন। ডিজির রুমে তাকে আটকিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে মারধর ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানকে। বিষয়টি জানতে পেরে আতিকুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করেন এবং ডিএফপির ডিজির সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার বড় ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। এ ঘটনায় পল্টন থানায় জিডি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


আতিকুর রহমান জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য, ডকুমেন্টারি বিল আদায়ের নামে জোহান সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে ঘটনার সঙ্গে হাবিবুল্লাহ কাহার কলেজ ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন, যা সত্য নয়। হাবিবুল্লাহ কলেজের ছাত্রদলকে নিয়ে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। সোমবারের ঘটনায় ছাত্রদলকে জড়ানোর বিষয়টি তার ধারাবাহিকতা মাত্র। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি বিল আদায়ের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর ওপর মব সৃষ্টির মাধ্যমে হামলা ও আহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এমআইকে/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর