মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

মঙ্গল না আনন্দ শোভাযাত্রা— নামের বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়: সংস্কৃতি মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মঙ্গল না আনন্দ শোভাযাত্রা— নামের বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়: সংস্কৃতি মন্ত্রী
নিতাই রায় চৌধুরী (ফাইল ছবি)

পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে চলমান ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ বিতর্ককে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, এই বিতর্ক জাতিকে বিভক্ত করতে পারে, যা কাম্য নয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পরবর্তী গণতান্ত্রিক চর্চা সবকিছুকে সমন্বিতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তবে এই স্বীকৃতি দেশের নিজস্ব ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ধারার ওপর নির্ভরশীল। আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমাদের সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে বলেন তিনি।

শোভাযাত্রার নাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে দীর্ঘদিন ধরে যে আয়োজন হয়ে আসছে, সেটি নিয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। আবার ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম নিয়েও আলাদা কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়। মূল বিষয় হচ্ছে আয়োজনের চেতনা ও অংশগ্রহণ। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছর এই নাম পরিবর্তন ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল। বাস্তবে ‘মঙ্গল’ বা ‘আনন্দ’ নামের ভিন্নতা থাকলেও আয়োজনের ধরন ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় তেমন কোনো পার্থক্য ছিল না।

মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রগতিশীল ও জীবনমুখী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। বাউল গান, লোকসংগীত, যাত্রা, নাটকসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


পহেলা বৈশাখ উদযাপন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য চাই। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।

‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও, কিছু সিদ্ধান্ত অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়।’ বলেন মন্ত্রী।

শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, দেশের সচেতন অংশ হিসেবে গণমাধ্যমকে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য ও ইতিবাচক সংস্কৃতি চর্চায় ভূমিকা রাখতে হবে।
 
বিইউ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর