মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবু মিলছে না চাহিদামতো তেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

Pump

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল নিতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালক চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। কোথাও ৩০ মিনিট, কোথাও আবার এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নির্ধারিত সীমার বেশি তেল মিলছে না। এতে করে অফিসগামী, ডেলিভারি কর্মীসহ সাধারণ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি।


বিজ্ঞাপন


পাম্প মালিকরা বলছেন, পাম্প খোলার আগেই মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন চালকরা। অনেক জায়গায় সকাল ৭টার আগেই কয়েক শ’ মিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমরা সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছি। চাহিদা মতো তেল দিতে না পারায় বাইকারদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।

কয়েকজন বাইকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ প্রান্তেই প্রয়োজনের তুলনায় তেল কম রয়েছে। পাম্প মালিকরা দীর্ঘ সারি দেখে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার পরও ধীরগতিতে বিতরণের কারণে লাইনের দৈর্ঘ্য দ্রুত কমছে না।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, প্রতিদিনই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কেউ অফিসে যেতে দেরি করছেন, কেউ আবার পেশাগত কাজে সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না। অনেকেই নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী ২ লিটার তেল পেলেও তা তাদের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন।

মতিঝিলের পূবালী ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা কাউসার বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় দেড় ঘণ্টা। সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


আরেকজন জানান, আগে ৫ থেকে ৬ লিটার তেল নিয়ে কয়েক দিন নিশ্চিন্তে চলা যেত। এখন ২ লিটার তেল নিয়ে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট হচ্ছে।

ডেলিভারি সেবার সঙ্গে যুক্ত মোটরসাইকেল চালক আরিফ হোসেন বলেন, আমাদের জন্য এই পরিস্থিতি আরো কঠিন। প্রতিদিন রাস্তায় থাকতে হয়। ২ লিটার তেল দিয়ে পুরো দিনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত রেশনিং ব্যবস্থার মধ্যেই তারা তেল সরবরাহ করছেন। তবে অতিরিক্ত চাহিদা এবং একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেলের চাপের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কেউ কেউ তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

পাম্প মালিকদের দাবি, দেশে জ্বালানির স্থায়ী সংকট না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আগাম তেল সংগ্রহের প্রবণতা বাড়ায় লাইনের চাপ আরো বেড়েছে।

এদিকে অনেক পাম্পে শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও পুলিশ বা প্রশাসনের সহায়তায় লাইনের নিয়ন্ত্রণ রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবুও চাপ কমছে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়িয়ে চললে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানো গেলে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিও অনেকটা কমে আসবে।

এমআর/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর