নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোমবার (৩০ মার্চ) কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। গত বছর তার সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সোমবার বিক্ষোভকারীরা ভস্মীভূত হওয়া পুরোনো সংসদ ভবনের কাছে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ‘কেপি অলির মুক্তি চাই’ এবং ‘কমিশনের অবৈধ রিপোর্ট মানি না’ বলে স্লোগান দেন। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ মার্চ (শনিবার) ভোরে ৭৪ বছর বয়সী অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাককে তাদের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উল্লেখ্য, এর মাত্র এক দিন আগে নেপালের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বালেন্দ্র শাহ।
অসুস্থতার কারণে রোববার (২৯ মার্চ) হাসপাতাল থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন অলি। আদালত তার রিমান্ড আরও পাঁচ দিন বাড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। অলির আইনজীবীরা ইতোমধ্যে তার মুক্তির আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট দাখিল করেছেন।
সেপ্টেম্বরের গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৭৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন। সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। কমিশনের মতে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানো বন্ধ করতে না পারা ‘ফৌজদারি অবহেলা’র শামিল।
অলি ও রমেশ লেখাক উভয়েই সহিংসতার দায় অস্বীকার করেছেন। তবে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সহিংসতার কথা জানতাম না’ বলে তারা যে দাবি করেছেন, তা দায়িত্ব এড়ানোর অপচেষ্টা মাত্র। অলির পাশাপাশি সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী দীপক খড়কাকেও অর্থপাচারের অভিযোগে রোববার আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
এফএ

