স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আবেদনভিত্তিক যাচাই-বাছাই করে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী এসব মামলা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় সদস্য যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত বিস্তৃত। আমি আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে এটি নোটিশ আকারে বা নির্দিষ্ট প্রশ্ন হিসেবে আনবেন। তখন আমি বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিতে পারব।
‘বিষয়টি যেহেতু সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হবে, তাই সংক্ষেপে কিছু বিষয় তুলে ধরছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালে ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশে ব্যাপকহারে গায়েবি মামলা, মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা, গুম, খুন ও অপহরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়ম-অবিচারের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য সম্পৃক্ত ছিল-এ বিষয়টি সবারই জানা।’
টাঙ্গাইলের ৪ আগস্টের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
নির্দিষ্ট মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ সদস্যদের আলাদা নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমি সেই নির্দিষ্ট মামলার বিস্তারিত অগ্রগতি জানাতে পারব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের বিরুদ্ধে করা কিছু মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি আবেদনের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে করা হয়েছে। তবে সব মামলা এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়নি।’
তিনি স্পষ্ট করেন, হত্যা, অপহরণ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলো প্রত্যাহারের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির জন্য নির্দিষ্ট টার্মস অব রেফারেন্স নির্ধারণ করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা সব ধরনের মামলার ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের এফআইআর, চার্জশিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে। এরপর জেলা কমিটি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশসহ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
‘পরবর্তীতে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ওই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৪৯৪ ধারার আওতায় মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’
এমএইচএইচ/এমআর

