বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

শিশুদের উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত জাতীয় চিড়িয়াখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

শিশুদের উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত জাতীয় চিড়িয়াখানা
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। ছবি: ঢাকা মেইল

ছুটির সকালেই রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাঙ্গণ প্রাণীপ্রেমী দর্শকদের আগমনে মুখরিত হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশদ্বার থেকে ভিড় ঢুকে পড়ছে খাঁচার দিকে, যেন শহরের ব্যস্ততা ভুলে সবাই স্বাভাবিক প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর পরিবারের আনন্দময় মুহূর্ত চিড়িয়াখানার পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
 
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই বাঘ, সিংহ, জিরাফ, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচার দিকে এগোতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। খাঁচাবন্দি প্রাণীদের খেলা, চলন-বলন এবং কিচিরমিচির শব্দ শিশুদের মধ্যে বিশেষ আনন্দ সৃষ্টি করেছে। বাচ্চারা খাঁচার কাছে দাঁড়িয়ে প্রাণীকে দেখার জন্য হাত বাড়াচ্ছে, ছবি তুলছে এবং ভিডিও ধারণ করছে। বিশেষ করে বাঘ ও সিংহ খাঁচার সামনে দর্শকরা দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
 
এদিকে টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো দর্শকরা জানাচ্ছেন দীর্ঘ অপেক্ষা করেও তাদের আনন্দ কমেনি। দর্শক সায়ন মাহমুদ বলেন, টিকিটের লাইনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবুও খাঁচার সামনে এসে বাঘ ও সিংহকে দেখার মুহূর্তে সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। শিশুদের খুশি দেখলে আমাদের আনন্দ আরও বাড়ছে। 

WhatsApp_Image_2026-03-26_at_4.06.20_PM
 
চিড়িয়াখানার বিভিন্ন খাঁচায় প্রাণিরা কৌতূহলপূর্ণভাবে চলাফেরা করছে। রেসাস বানররা একে অপরের সঙ্গে খেলছে, গাছের উপর দৌড়াচ্ছে এবং দর্শকদের দিকে কৌতূহলপূর্ণ দৃষ্টি দিচ্ছে। টাইগার বকুলের খাঁচার সামনে দর্শকরা দীর্ঘ সময় ধরে ছবি তুলছেন। আফ্রিকান সিংহ কাপল সুসান ও লিলি তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং শান্ত স্বভাবের কারণে দর্শকদের নজর কেড়েছে। চিত্রা হরিণের খাঁচার পাশে শিশুরা দীর্ঘ সময় বসে তাদের খেলা পর্যবেক্ষণ করছে।
 
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দর্শকদের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে কিছু দর্শক অস্বস্তি বোধ করছেন। প্রশাসন ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কর্মীরা প্রবেশদ্বার, খাঁচার আশেপাশে এবং পথঘাটে নজর রাখছেন। এছাড়া দর্শকদের পরিবেশ দূষণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
বিকেল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দর্শক সংখ্যা আরও বেড়েছে। পরিবারসহ শিক্ষার্থী ও বন্ধুরা ছবি-ভিডিও তুলছেন, পাশাপাশি খাঁচার পাশে দাঁড়িয়ে প্রাণীর চলন-বলন উপভোগ করছেন। শিশুরা তাদের প্রিয় প্রাণীকে কাছে থেকে দেখার জন্য উত্তেজিত। বিশেষ করে বানর, সিংহ এবং হরিণের  খাঁচার সামনে শিশুদের কৌতূহলপূর্ণ আচরণ চোখে পড়ছে।
 
চিড়িয়াখানায় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শকদের সুবিধার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান দর্শকরা যাতে নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে প্রাণী দেখেন, সে জন্য পর্যাপ্ত নির্দেশিকা, নিরাপত্তা বার এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া দর্শকদের প্রতি আহ্বান করা হচ্ছে যে তারা যেন কৌতূহল প্রকাশের সময় প্রাণীদের বিরক্ত না করে।


বিজ্ঞাপন


WhatsApp_Image_2026-03-26_at_4.06.30_PM
দেখা গেছে, পর্যটকরা চিড়িয়াখানায় আসা তাদের ছুটির দিনটিকে আরও আনন্দময় করেছে। শিশুরা আনন্দে নাচছে, ছবি তুলছে, প্রাণির চলন-বলন দেখছে। পরিবারগুলো একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, বন্ধুরা একসঙ্গে ছবি তুলছে।
 
দর্শনার্থী সাকিব আল মাহদী বলেন, টিকিট কাটতে কিছুটা সময় লাগলেও ভেতরে ঢোকার পর সেই অপেক্ষার কষ্ট আর মনে থাকেনি। তিনি জানান, বিশেষ করে বাঘ আর সিংহকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার জন্য আলাদা অনুভূতি তৈরি করেছে। পরিবারের ছোট সদস্যদের আনন্দই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
 
চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানান, ঈদের পরপরই জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর চাপ অনেক বেশি ছিল এবং প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ এখানে ভিড় করেছেন। তবে কয়েক দিন পার হতে না হতেই সেই চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। শুরুতে যেভাবে দর্শনার্থীর ঢল ছিল, এখন তা অনেকটাই স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। আজও দর্শনার্থী থাকলেও আগের দিনের তুলনায় সংখ্যা কম। ঈদের শুরুতে মানুষ বেশি ঘুরতে বের হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় কমে আসে এবং চিড়িয়াখানা এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরছে। 

WhatsApp_Image_2026-03-26_at_4.06.15_PM 
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার ঢাকা মেইলকে বলেন, আজকের দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কমেছে এবং গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এই সংখ্যা কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ সারাদিনে দর্শনার্থীর যে প্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তাতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মোট দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের মতো হতে পারে। তবে এটি আনুমানিক হিসাব, কারণ বিকেল পাঁচটার পর পুরো দিনের চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি রয়েছে, তাতে এই সংখ্যাটি কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
  
পরিচালক বলেন, ঈদের দিন চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল প্রায় ৮০ হাজার। তবে ঈদের পরদিন সেই সংখ্যা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায় এবং প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় আসেন। এর পরদিনও দর্শনার্থীর সংখ্যা খুব বেশি ছিল, প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। এরপরের দিন তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজারে। গতকাল বুধবারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় এসেছেন, যা প্রায় ৯০ হাজারের মতো ছিল।
 
এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর