বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঈদ শেষে নীরব-নিস্তব্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদ শেষে নীরব-নিস্তব্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন
ঈদ শেষে বোটানিক্যাল গার্ডেনের চিত্র: ছবি: ঢাকা মেইল

মিরপুরের জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে নিস্তব্ধতা, ঈদের উচ্ছ্বাস শেষ হওয়ায় উদ্যান যেন শান্ত হয়ে গেছে। পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায়, শুধু পাতার নড়াচড়া, দূরে পাখির কণ্ঠ আর বিকেলের হালকা সূর্যডুবার আলো। একসময় উপচে পড়া মানুষের ঢল থাকলেও এখন আর নেই। এ উদ্যান যেন এখন নিজের নিঃশব্দ অবস্থায় বিশ্রাম নিচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের বিভিন্ন পথ ও গাছপালার ফাঁকে নীরবতা বিরাজ করছে। ঈদুল ফিতরের উৎসব শেষে দর্শনার্থীর সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে কমে গেছে। ছুটির দিনে শহুরে জীবনের এই সবুজ পরিসরে যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যেত, তার অনেকটাই এখন অনুপস্থিত।


বিজ্ঞাপন


1

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, বাংলাদেশে উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। ১৯৬১ সালে রাজধানীর মিরপুরে ২০৮ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যানে সরকার নানা প্রজাতির গাছপালা সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের বিনোদনের সুযোগও রেখেছে। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই উদ্যান আধুনিকায়নের মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন দেওয়ার পরেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তাই দর্শনার্থীর আগ্রহ কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন অনেকে।

সকাল থেকেই উদ্যানের প্রবেশপথে দেখা গেছে, দর্শনার্থীর সংখ্যা খু্বই কম। টিকিট বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা বলেন, ঈদের পর সাধারণত দর্শনার্থী ৩ থেকে ৪ দিন বেশি আসলেও আস্তে আস্তে কম আসে। সকাল থেকে কিছু স্থানীয় মানুষ হাঁটাহাঁটির জন্য এসেছে, বিকেলেও বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি পরিবার আসে। তবে আগের মতো ভিড় নেই। উদ্যানের পাশেই চিড়িয়াখানা থাকায় অনেক দর্শনার্থী সেখানে বেশি আগ্রহী।

2


বিজ্ঞাপন


উদ্যানের ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, বসার জায়গা অত্যন্ত সীমিত। বিশ্রামের সুবিধা না থাকায় দর্শনার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে এখানে থাকতে পারছেন না। ফয়সাল হোসেন নামের এক দর্শনার্থী বলেন, উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে লেখা আছে, ‘বসার স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বসবেন না’। কিন্তু বসার জায়গা কম, এবং যেটুকু আছে তা প্রায়ই ব্যবহারযোগ্য নয়। মানুষকে খুঁজে বের করতে হয়, এবং সব সময় সেগুলো স্বাচ্ছন্দ্য দেয় না।

শিকদার হায়দার নামে আরেক দর্শনার্থী জানান, রাস্তার পাশে কিছু বেঞ্চ আছে, কিন্তু সংখ্যার অভাব রয়েছে। পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও বসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তার স্ত্রী ললিতা হায়দার বলেন, উদ্যানের ভেতরে এমন কিছু জায়গা থাকা দরকার, যেখানে পরিবারসহ বসা যায়। চারপাশ একেবারে জঙ্গল থাকলে সুবিধা হয় না। জায়গা তো আছে, তবে ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে।

4

উদ্যানের ভেতরে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা সীমিত। যেগুলো আছে, সেগুলোও মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। পরিচ্ছন্নতার অভাব দর্শনার্থীদের বিরক্তির কারণ হিসেবে কাজ করছে। যদিও কিছু দর্শনার্থী সন্তুষ্ট, কারণ হকার বা অন্যান্য হয়রানি নেই। তবু দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলে জানান দর্শনার্থীরা।

উদ্যানের কর্মকর্তারা জানান, সকালবেলায় স্থানীয় বাসিন্দারা হাঁটাহাঁটির জন্য আসেন। বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসে। তাদের মধ্যে অনেকেই রাজধানী বাইরে থেকে এসেছেন। তারা নানা প্রজাতির গাছপালা দেখেন এবং সতেজ পরিবেশে ছুটি কাটান। তবে দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই উদ্যানের নিয়ম-কানুন মানেন না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বা সহায়ক কর্মী না থাকায় মাঝে মাঝে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, বর্তমানে উদ্যানটি দর্শনার্থী শূন্যতায় ভুগছে। দিনে প্রায় কেউ আসে না, মাঝে মাঝে দু-একজন মাত্র ঘুরে দেখেন। ঈদের পর কয়েকদিন সাময়িকভাবে কিছু দর্শক এসেছে, তবে বর্তমানে আবার কমে গেছে।

এএইচ/এআর

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর