বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য করণীয়

মাহফুজ মিশু
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য করণীয়
ছবি: মাহফুজ মিশু।

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে লিখেছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু। লেখাটি তুলে ধরা হলো:

১. তেলের প্রকৃত মজুত, পাইপলাইনে কতটুকু আছে—এসব স্পষ্ট করে জনগণের সামনে তুলে ধরা।


বিজ্ঞাপন


২. এটি যে বৈশ্বিক সংকট এবং এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা রয়েছে—তা জনগণকে বুঝিয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা চাওয়া।

৩. সরকারি ছুটি অন্তত একদিন বাড়ানো বা পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দুই দিন অনলাইনে অফিস করার নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

৪. শহরে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন সরাসরি ক্লাস চালু রেখে বাকি সময় অনলাইনে নেওয়া।

৫. ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় নম্বর অনুযায়ী বিকল্প দিনে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া।


বিজ্ঞাপন


৬. আন্তঃজেলা পরিবহন সীমিত করা এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহ জরুরি কাজ ছাড়া নিজ জেলা ছাড়তে নিরুৎসাহিত করা।

৭. সব সরকারি অফিসে এসি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা এবং বেসরকারি অফিস ও বাসাবাড়িতে পারতপক্ষে না চালানোর অনুরোধ করা। চালালেও তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রিতে নির্ধারণ করে রাখা।

৮. সরকারি-বেসরকারি সব অফিস ও বিভিন্ন আয়োজনে সাময়িকভাবে স্যুট পরা বন্ধ রাখা।

৯. ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরবাইকে দিনে সর্বোচ্চ কতটুকু তেল নেওয়া যাবে তা নির্ধারণ করা এবং লাইসেন্স বা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সেই হিসাব রাখা।

১০. তেলের মজুত ও পাচার বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরদার করা।

১১. বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অকটেন ও পেট্রোলের দাম দ্রুত নির্ধারণ করা। ডিজেলে যতটা সম্ভব ভর্তুকি দেওয়া, যাতে গণপরিবহন ও পণ্যের দামে প্রভাব কম পড়ে।

১২. মন্ত্রী-সচিব থেকে সরকারের সব পর্যায়ে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গ্রুপে যাতায়াতের উদ্যোগ নেওয়া, অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য।

১৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আগাম লোডশেডিং সূচি প্রকাশ করা। সেক্ষেত্রে ঢাকার অভিজাত এলাকা দিয়ে লোড ম্যানেজমেন্ট শুরু করা।

১৪. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল বেশি পরিমাণে আনার উদ্যোগ নেওয়া।

১৫. স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি কী দামে এবং কতটুকু কেনা হচ্ছে, তা জনগণকে স্পষ্টভাবে জানানো।

১৬. সামগ্রিক বিষয় দেখভালের জন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল চালু করা এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা রাখা। এর বাইরে জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের অন্য কেউ কথা বলবেন না—তা নিশ্চিত করা।

১৭. জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণকে আহ্বান জানানো। এ ক্ষেত্রে বিটিভিসহ বেসরকারি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা।

১৮. ইমাম, পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জ্বালানি কম ব্যবহার করতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।

১৯. এই সংকট মোকাবিলায় একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করা, যাতে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না হয়।

আপাতত ১৫ দিনের জন্য এসব পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। ধারণা করা যায়, এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে অতীতের অনেক সংকটের মতো এবারের জ্বালানি সংকটও কাটিয়ে উঠতে পারবে বাংলাদেশ।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর