ঈদের দিন ও পরের দিন সরকারি ছুটির কারণে তেলের সরকারি ডিপোগুলো বন্ধ ছিল। তাছাড়া ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করতে না পারায় ডিপো থেকে নতুন তেল সংগ্রহ করতে পারেননি ফিলিং স্টেশনের (পাম্প) মালিকরা। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকট দিয়েছে। তবে ঈদের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে ব্যাংক খুলেছে। এতে পে-অর্ডারও করতে পারছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। যারফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেলের সরবরাহ শুরু হওয়ায় আগামীকালের মধ্যে পাম্পগুলোর সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গ্রাহকদের ‘প্যানিক’ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল আছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের দিন আর ঈদের পরের দিন সরকারি ছুটি ছিল। সে সময় আমাদের যে ডিপো গুলো আছে ডিপুগুলো বন্ধ ছিল। সেজন্য ডিপোগুলো থেকে তেল সরবরাহ করা হয় নাই। এজন্য হয়তোবা পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেলের সল্পতা থাকতে পারে। তবে আজকে (মঙ্গলবার) সকাল থেকে আবার ডিপোগুলো চালু হয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্প তেল পাবে। তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পগুলোতে লাইন দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর টানা তিন সপ্তাহ ধরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
যদিও সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, জ্বালানি তেলের ঘাটতি নেই। মূলত অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। এজন্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। পরে ঈদ সামনে রেখে গত ১৪ মার্চ পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থাও তুলে নেয় সরকার।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করতে পারছিল না গ্রাহকরা। পাম্পে পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন লেগেই থাকছে। বিশেষ করে ঈদের পর থেকে জ্বালানির সংগ্রহে চরম বিরম্বনায় পড়েন গ্রাহকরা।
মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পগুলোতে ডিজেল ও পেট্রোল মিললেও অকটেন একেবারেই সংকট দেখা দেয়। এতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছেন জ্বালানি।
তবে ডিপো থেকে নতুন তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় বিকেল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা।
সোমবারই (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়, ব্যাংক খুললে বুধবার থেকে চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল ওইদিন বলেন, ‘যে পরিমাণ চাহিদা তার তিন ভাগের একভাগও ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না। যেখানে তেল আছে সেখানে খোলা, যেখানে নেই সেখানে বন্ধ। তবে স্থায়ীভাবে পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ার কারণ সম্পর্কে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, ‘ব্যাংক বন্ধ থাকায় মালিকরা পে অর্ডার করতে পারেননি, সে কারণে তেল তোলা যায়নি।
‘এ কারণে পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। আশা করা যায় বুধবার থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে,’ যোগ করেন নাজমুল।
গ্রাহকদের উদ্দেশে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে আহবান জানাবো যে, আপনারা প্যানিক হবেন না এবং আপনার প্রয়োজনের বেশি তেল ক্রয় করে অযথা অস্থিরতা তৈরি করবেন না। প্রয়োজনের বেশি তেল নিলে স্টক করলে ভিড় বাড়বে লাইন বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘তেল আছে আমরা তেল দিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের প্রয়োজনের বেশি তেল নিবেন না। আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি। আশা করি এ সমস্যার সমাধান করতে পারব। তেল নিয়ে কোন সংকট হবে না।’
গত বছর থেকে এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছি। আমরা যতক্ষণ পারবো আমরা চেষ্টা করে যাব।’
এএম

