এবারের ঈদযাত্রায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ‘স্মরণকালের মর্মান্তিক ও অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানায় সংগঠনটি। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুরোধে ১৮ টি প্রস্তাব ও পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুষ্টিয়ার মিরপুরে মায়ের সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরারপথে ভ্যান চাপায় ৭ বছর বয়সী সুরাইয়া খাতুন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নতুন জামায় ঈদ করা হলো না ৬ বছর বয়সী শিশু ফাইজা আক্তারের, মায়ের সঙ্গে মার্কেট করে বাড়ির সামনে এসে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে সে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ঈদুল ফিতরের আনন্দে ঘুরতে গিয়ে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশু নিহত হয়েছে, আর এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শুধুমাত্র পরিবার নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ও সামাজিকভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন। সামাজিকভাবে কিছু দুঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, যারা তাদের দায়বদ্ধতা থাকে যা তারা এড়াতে পারেন না। যেমন- আহত শিশুকে সঠিক সময়ে উদ্ধার করতে সক্ষম হলে হয়তো শিশুটির মৃত্যু নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের সহায়তা একান্ত কাম্য। জামালপুরের ৪ শিশু মৃত্যু তারই জ্বলন্ত উদহারণ। দুর্ঘটনার সময় অনেক ব্যক্তিকে মুঠোফোনে ভিডিও ধরণ করতে দেখা যাই, কিন্তু হতাশাব্যঞ্জক হলেও সত্যি যে, উদ্ধার করার প্রবণতা কম লক্ষণীয়।’
শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনের প্রস্তাবনা হলো-
১. সড়ক নিরাপত্তা আইন শক্তিশালী করা: সড়ক নিরাপত্তাআইন শক্তিশালী করা উচিত, আর দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
২. সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি: সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা চালানো উচিত, আর জনগণকে সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো উচিত।
৩. শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া উচিত, আর তাদের সড়ক নিরাপত্তার নিয়ম সম্পর্কে জানানো উচিত।
৪. সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন: সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করা উচিত, আর দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।
৫. শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা করা উচিত, আর দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
সংগঠনের পরামর্শগুলো হলো-
১. শিশুকে চোখের আড়াল করবেন না: জনবহুল এলাকা বা রাস্তায় শিশুকে একা ছাড়বেন না।
২. শিশুকে সচেতন করুন: শিশুকে রাস্তা পারাপারের নিয়ম শেখান, আর বিপদে কী করতে হবে তা জানান।
৩. পরিচয়পত্র সাথে রাখুন: শিশুর পরিচয়পত্র, ছবি আর জরুরি নম্বর সাথে রাখুন।
৪. সাবধানে যানবাহনে উঠান: শিশুকে যানবাহনে উঠানোর সময় সাবধান থাকুন, আর সিট বেল্ট ব্যবহার করুন।
৫. জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলুন: সম্ভব হলে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলুন, আর শিশুকে নিরাপদে রাখুন।
৬. শিশুর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা কিট রাখুন: শিশুর জন্যপ্রাথমিক চিকিৎসা কিট সাথে রাখুন, আর জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন।
৭. এছাড়াও, শিশুকে ঈদের আনন্দে রাখতে কিছু নিরাপদ গেম বা অ্যাক্টিভিটি প্ল্যান করুন, যাতে তারা বাড়ির ভিতরেই নিরাপদে থাকে।
সেবা ফাউন্ডেশন বলছে, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে সড়কে শিশু মৃত্যু বা ঈদ যাত্রায় শিশু মৃত্যু কমানো সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানায় সংগঠনটি।
গবেষণার জন্য সংগঠনটির প্রস্তাবগুলো হলো-
১. শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার গুরুত্ব: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা করা হলে, দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
২. শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্র: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্র হতে পারে সড়ক নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, আগুন নিরাপত্তা ইত্যাদি।
৩. শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার পদ্ধতি: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার পদ্ধতি হতে পারে জরিপ, পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি।
৪. শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার গুরুত্ব: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে, শিশুরা নিরাপদ থাকতে শিখবে।
৫. শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার পদ্ধতি: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার পদ্ধতি হতে পারে গল্প বলা, নাটক, গান ইত্যাদি।
৬.শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার বিষয়বস্তু: শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার ও প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু হতে পারে সড়ক নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, আগুন নিরাপত্তা ইত্যাদি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিটি শিশু অপার সম্ভাবনা নিয়ে পৃথিবীতে জন্ম নেয়। নিষ্পাপ এইসকল শিশুর নির্মম মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। সড়কে শিশু মৃত্যু বা ঈদ যাত্রায় শিশু মৃত্যু বিষয়ে সরকারের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা করছি।’
এএম

