রাজধানীর বিজয় সরণিতে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর ঈদের ছুটিতে পরিণত হয়েছে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণকেন্দ্রে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে অনেকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করছেন নিজেদের ঈদের আনন্দ।
রোববার (২২ মার্চ) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই জাদুঘর প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়তে শুরু করে, যা ছুটির পুরো সময়জুড়ে অব্যাহত রয়েছে। সকাল থেকে টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ আগ্রহ নিয়ে ঘুরে দেখছেন সামরিক ইতিহাসের নানা নিদর্শন।
বিজ্ঞাপন
দর্শনার্থীরা জানান, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য এটি একটি ভিন্নধর্মী স্থান। এখানে একদিকে যেমন বিনোদন পাওয়া যায়, অন্যদিকে দেশের সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়।
ধানমণ্ডি থেকে আসা শিক্ষার্থী রাশেদ মাহমুদের ভাষ্য, ‘বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে ভালো লাগছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু নতুনভাবে জানতে পারছি।’
মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘সন্তানদের শুধু ঘোরানো নয়, কিছু শেখানোরও দরকার। এই জাদুঘর সেই সুযোগটা দেয়।’
স্কুল শিক্ষার্থী তানভীর জানায়, ‘ট্যাংক, যুদ্ধবিমান আর অস্ত্রগুলো কাছ থেকে দেখে খুব ভালো লেগেছে। বইয়ে পড়েছি, কিন্তু এখানে দেখে আরও পরিষ্কার বুঝতে পারছি।’
বিজ্ঞাপন
একজন চাকরিজীবী দর্শনার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের সময় ঢাকার বাইরে যাওয়া হয়নি। তাই পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। সময়টাও ভালো কাটছে, আবার দেশের ইতিহাস সম্পর্কেও জানা যাচ্ছে।’
জাদুঘরের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সময়ের ব্যবহৃত অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, ট্যাংক, যুদ্ধবিমানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন প্রদর্শন করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কিছু গ্যালারি দর্শনার্থীদের সামনে যুদ্ধের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে, যা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের চাপ বিবেচনায় বাড়তি ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের মতো সামরিক জাদুঘরেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম হচ্ছে। নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সময় কাটানোর এমন সুযোগ পেয়ে অনেকেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এম/ক.ম

