সারাদেশে চলছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি। ছুটি কাটাতে শহর ছেড়ে গ্রামমুখী হয়েছে মানুষ। অন্যদিকে বেপরোয়া যান চলাচলে গ্রাম-গঞ্জে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর গুরুতর হতাহতরা ছুটে যান রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর)। ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর থেকেই হাসপাতালটিতে বাড়ছে দুর্ঘটনার শিকার রোগী। চলতি মাসের ২১ দিনে হাসপাতালটিতে এমন রোগী ভর্তির সংখ্যা ২৫৫।
রোববার (২২ মার্চ) ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালটির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে আসা রোগীদের সেবায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত যেন না ঘটে সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কেননা, সারাদেশের দুর্ঘটনাকবলিত রোগীদের নজর থাকে হাসপাতালটির দিকে। নিটোর রোস্টার অনুযায়ী টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০০ চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। হাসপাতালটির সক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সেবা দেবেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর চিকিৎসকসহ বিভিন্ন সেবা বেশি রাখা হয়েছে।
হাসপাতালটির চিকিৎসকরা জানান, নিয়মিত অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ২৮টি, জরুরি বিভাগে ওটি আটটি খোলা থাকবে। জরুরি বিভাগের ওটি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এই বিভাগে প্রতিদিন ১৫ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে আলাদা মেডিকেল টিম।
নিটোর সহকারী অধ্যাপক ডা. জীবানন্দ হালদার বলেন, ঈদের জন্য আমাদের আলাদা কাজের তালিকা (রোস্টার) থাকে। যেটা আমরা সেন্ট্রাল রোস্টার বলি। এখানে কিছু সংখ্যক ডাক্তার ইউনিট ভাগ করে কাজ করে থাকেন।
নিটোর ওয়ার্ড মাস্টার নুর মোহাম্মদ বলেন, ঈদের দিন শনিবার দুপুর থেকে কাজের চাপ বাড়তে থাকে। বেপরোয়া মোটরসাইকেলের গতি এবং অটোরিকশার দুর্ঘটনায় রোগী বেশি এসেছে।
গত তিন বছরের পরিসংখ্যান বলছে, উৎসব আনন্দের দিনগুলোতে বাড়ে দুর্ঘটনা। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরেই ৩০০ থেকে ৩৫০ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ।
এসএইচ/ক.ম

