ঈদের ছুটিতে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের চাপ চোখে পড়ার মতো। এর ব্যতিক্রম হয়নি ধানমন্ডি লেকেও। ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এসে ভিড় জমিয়েছেন ধানমন্ডির এই লেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডি লেকে মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। কেউ এসে সোজা চলে যাচ্ছেন লেকের রবীন্দ্র সরোবর-এর দিকে, আবার কেউ যাচ্ছেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে। কেউ লেকে বোট রাইড করছেন, কেউ বসে গল্প করছেন, আবার কেউ ফটোসেশন করছেন।
অন্যদিকে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে কেউ ট্রেনে চড়ছে, কেউ দোলনা-নৌকায় দোল খাচ্ছে, আবার কেউ জাম্পিং করছে। সব মিলিয়ে লেকে আসা দর্শনার্থীরা উপভোগ করছেন ঈদের ছুটি।
আফজাল হোসেন, বয়স প্রায় ৬০। দুই কন্যা ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডি লেকে ঘুরতে এসেছেন। বড় মেয়ে আফরোজার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করি। আমার বাবা, ছোট বোন ও আমার ছেলেকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে ধানমন্ডি লেকে এসেছি। পরিবার নিয়ে ঘুরতে ভালোই লাগছে।’
তারিকুল ইসলাম তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে পুরান ঢাকা থেকে ধানমন্ডি লেকে ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল আমরা আমাদের এলাকার দিকে ঘুরেছি। আজ এদিকে এসেছি। প্রথমে লেকে ঘুরব, এরপর সংসদ ভবন হয়ে জিয়া উদ্যানে যাব।’
দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে লেকের রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় এসেছেন মানিক ও জুঁই। সন্তানদের একজনের বয়স ৭ এবং অন্যজনের ১০ বছর। দুই সন্তানকে ট্রেনে চড়িয়ে তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের আনন্দ উপভোগ করছিলেন। এ সময় মানিক বলেন, ‘একসময় আমাকে আমার বাবা এভাবে ঘুরতে নিয়ে যেতেন, এখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে এসেছি। ঈদের ছুটি বাচ্চাদের সঙ্গে ভালোই কাটছে।’
বিজ্ঞাপন
ধানমন্ডি লেকে ঘুরতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশেষ কোনো কারণ নেই। মনে হয়েছে এখানে সবাই আসে, তাই ভাবলাম আমরাও আসি—দেখি কেমন লাগে।’
এমএইচএইচ/ক.ম

