দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ। ভোর থেকেই হাজার হাজার মুসল্লি সেখানে জড়ো হন ঈদের নামাজ আদায় করতে। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয় জাতীয় ঈদগাহ এলাকা।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবেশপথে একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয় এবং প্রতিটি মুসল্লিকে তল্লাশির মধ্য দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে।
বিজ্ঞাপন
তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আড়ালে ছিল আরেকটি নীরব বাস্তবতা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যই জাতীয় ঈদগাহের মূল জামাতে অংশ নিতে পারেননি। তবুও তারা দায়িত্বস্থলেই দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নেন। ঈদের দিনে ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়ে দায়িত্বকেই তারা বড় করে দেখেছেন।
দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সদস্য জানান, জাতীয় ঈদগাহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রথম দায়িত্ব। তাই মূল জামাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে অনেকে আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন কাছাকাছি অবস্থিত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ–এ ঈদের অন্য জামাতে অংশ নেবেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষে সময় পেলে সেখানেই নামাজ আদায় করবেন।
জাতীয় ঈদগাহ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে মুসল্লিদের মধ্যে ছিল স্বস্তি ও নিশ্চিন্ততার অনুভূতি। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষজনও নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
একদিকে ঈদের আনন্দ, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনের কঠোর বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নিজেরা জামাতে অংশ নিতে না পারলেও হাজারো মুসল্লির নিরাপদ ইবাদত নিশ্চিত করাই ছিল তাদের ঈদের দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
বিজ্ঞাপন
এমআর/এএস

