পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিতে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান-এ সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সব বয়সী মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদগাহ এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাজধানীর প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অংশ নেবেন মো. সাহাবুদ্দিন ও তারেক রহমান। এছাড়া রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জামাতে শরিক হবেন।
বিজ্ঞাপন
ভোরের পর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহে আসতে শুরু করেন। অনেকের গায়ে নতুন পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি, হাতে জায়নামাজ। কেউ আবার সঙ্গে করে পানির বোতল ও ছাতা নিয়ে আসেন, কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল।
শিশু-কিশোররাও অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদগাহে আসে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে প্রবেশের সময় দেখা যায়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিরা নির্ধারিত গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদগাহে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান ফটকে বসানো আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিলেন, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের আগেই জানানো হয়েছিল, জায়নামাজ ও ওয়ালেট ছাড়া অন্য কোনো বস্তু সঙ্গে না আনতে। ফলে অধিকাংশ মুসল্লিকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়েই মাঠে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আবহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ছিল দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের উচ্ছ্বাস ও আনন্দের পরিবেশ।
এমআর/এএস

