রাত পোহালেই ঈদ। এরই মধ্যে অনেকের ঈদের কেনাকাটা শেষ হলেও যাদের এখনো বাকি তারা শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় জমিয়েছেন। ছোট-বড়, নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের মানুষ—সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করছেন সবাই।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি এবং এর আশপাশের শপিংমল এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ারের সামনে থেকে ধানমন্ডি ২৭ (বাংলাদেশ আই হাসপাতালের মোড়) পর্যন্ত রাস্তা ধরে চললে দুই পাশেই নানা ব্র্যান্ডের শোরুম চোখে পড়ে। প্রায় প্রতিটি শোরুমেই ক্রেতাদের ভিড়। অনেকের হাতেই শপিং ব্যাগ।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, শেষ সময়ে কেনাকাটা করতে তাদের ভালো লাগে। কারণ এ সময় বিভিন্ন পণ্যে ছাড়ও পাওয়া যায়। ধানমন্ডি এলাকার বড় শপিংমল সীমান্ত সম্ভারেও প্রায় প্রতিটি দোকানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়।
কেনাকাটা করতে আসা শাহিন ও বিথী দম্পতি বলেন, আসলে শেষ দিনে কেনাকাটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা অনেক আগেই কেনাকাটা সেরে ফেলেছি। আজ শপিংমলে আসার মূল উদ্দেশ্য ঘোরাঘুরি করা। ঈদের আগের দিন শপিংমলগুলোর পরিবেশ অন্যরকম থাকে। সবাই ব্যস্ত থাকে নানা কাজে। আবার এ সময় অনেক পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়, তাই কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়। যদি পছন্দ হয়, কিনে নেব; না হলে নেব না।
বিজ্ঞাপন

সীমান্ত স্কয়ারে শপিং করতে আসা রাহুল বলেন, আমার বাসা ধানমন্ডির ১৫ নম্বরের ভেতরে। আমি সাধারণত চাঁদ রাত ছাড়া শপিং করি না। সময় হয়ে ওঠে না। অন্য দিন শপিং করতে ভালোও লাগে না। অনেকবার চেষ্টা করেছি আগে আগে শপিংটা সেরে ফেলব, কিন্তু পারিনি।
বসুন্ধরা বা সীমান্ত সম্ভারে না গিয়ে সীমান্ত স্কয়ারকে বেছে নেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত সম্ভারে গিয়েছিলাম। সেখানে ভিড় একটু বেশি, পণ্যের সংখ্যাও বেশি। কিন্তু এখানে ভিড় তুলনামূলক কম এবং দামও হাতের নাগালের মধ্যে।
সীমান্ত সম্ভার ও সীমান্ত স্কয়ার পাশাপাশি হওয়ায় পণ্যের দামের পার্থক্য খুব একটা চোখে পড়েনি। দুই জায়গাতেই প্রায় একই রকম দাম দেখা গেছে। এখানে ভালো মানের একটি পাঞ্জাবি কিনতে খরচ হচ্ছে এক হাজার থেকে চার হাজার টাকা। প্যান্টের দাম প্রায় দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। শার্টের দাম এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। তবে কিছু শোরুমে ছাড় থাকায় আরও কম দামেও পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সরেজমিনে ধানমন্ডির আড়ং, ইস্ট্যাসি ও আরও কয়েকটি নামি ব্র্যান্ডের শোরুম ঘুরে দেখা যায়, এসব দোকানে তুলনামূলক ভিড় কিছুটা কম। যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই উচ্চবিত্ত। যদিও মধ্যবিত্তের উপস্থিতিও দেখা গেছে।
দেশের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড আড়ংকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানা বিতর্ক থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির আড়ং শোরুমে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কেউ শাড়ি দেখছেন, কেউ থ্রি-পিস। আবার পুরুষদের পোশাকের মধ্যে অনেকেই পাঞ্জাবি দেখছেন। এছাড়া প্রসাধনীসহ নানা ধরনের পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে এখানে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষই এখান থেকে সাধ্যের মধ্যে নিজেদের পছন্দের পোশাক বা অন্যান্য পণ্য কিনছেন।
আড়ং থেকে শপিং করে বের হওয়ার সময় সুমি নামের এক ক্রেতা বলেন, আড়ং থেকে শপিং করি, কারণ এখানে একটা বিশ্বাস কাজ করে, যা অন্য কোথাও ততটা পাই না। প্রতিবারের মতো এবারও এখান থেকেই কেনাকাটা করলাম। আরেকটি বিষয় হলো, আমি যা চাই, বেশিরভাগই এক জায়গায় পেয়ে যাই।

আড়ংয়ের ব্যাগ–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে রবিন হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, এটি তাদের কোম্পানির নীতি। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়কটের কথা বলি ঠিক আছে, কিন্তু ঈদের শেষ দিনে এত ক্রেতা দেখে কি মনে হচ্ছে তাদের ক্রেতা কমেছে? বরং মনে হচ্ছে ক্রেতা আরও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আড়ং তো কাউকে জোর করে ব্যাগ কিনতে বলে না। চাইলে কিনবেন, না চাইলে কিনবেন না—এ বিষয়টি তারা পরিষ্কারভাবেই জানিয়েছে।
এমএইচএইচ/এএইচ

