চাঁদ দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন বদলে যায় শহরের ছন্দ। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই শুরু হয় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কেউ ছুটছেন পোশাকের দোকানে, আবার কেউ খুঁজছেন ঈদের নামাজের প্রস্তুতির শেষ অনুষঙ্গ—আতর, টুপি আর জায়নামাজ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলো তাই চাঁদ রাতে হয়ে ওঠে আলাদা এক প্রাণচাঞ্চল্যের কেন্দ্র।
বিশেষ করে বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, মতিঝিলসহ আশপাশের এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়তে থাকে ভিড়। ছোট ছোট দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে পড়ে। রঙিন টুপির সারি, কাঁচের বোতলে সাজানো আতরের ঘ্রাণ আর ঝুলানো জায়নামাজ—সব মিলিয়ে যেন ঈদের আগমনী আবহ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
বিজ্ঞাপন

নতুন পাঞ্জাবির সঙ্গে মানানসই টুপি খুঁজছেন অনেকেই। কেউ আবার আতরের ঘ্রাণে বেছে নিচ্ছেন নিজের পছন্দের সুবাস। কারও নজর জায়নামাজে—ঈদের নামাজটা নতুন কিছুর ওপর আদায় করার এক আলাদা তৃপ্তি থেকেই এই আগ্রহ। ধর্মীয় অনুভূতি আর উৎসবের প্রস্তুতি—দুটোই মিশে গেছে এই কেনাকাটায়।
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদ রাতই তাদের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়গুলোর একটি। সারাদিনের তুলনায় রাতেই ক্রেতার চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেকেই অফিস বা অন্যান্য কাজ শেষ করে রাতে কেনাকাটা করতে আসেন। ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বিক্রির গতি।
বাইতুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের আতর বিক্রেতা রবিউল বলেন, চাঁদ রাত মানেই আমাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। আজকে বিক্রি কয়েক দিনের সমান হয়ে যায়। ক্রেতারা বেশি সময় নিয়ে ঘ্রাণ দেখে আতর কিনছেন।
বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ২০০ থেকে ৩০০ টাকার আতরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হলেও দামি আতরও বিক্রি হচ্ছে ভালো।
টুপি বিক্রেতারাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের মতে, দেশীয় নকশার টুপির প্রতি এবার আগ্রহ বেশি। ১০০ থেকে ২০০ টাকার টুপিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বিদেশি টুপির আলাদা ক্রেতাশ্রেণিও রয়েছে।
ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, চাঁদ রাতের কেনাকাটার আলাদা আনন্দ আছে। এক তরুণ বলেন, দিনে সময় পাই না, তাই চাঁদ রাতেই সব কিনতে আসি। নতুন টুপি আর আতর না কিনলে ঈদের ফিলই আসে না।
আরেকজন জানান, জামা কাপড় সবাই কেনা হয়েছে। নতুন টুপি না কিনলে যেন অপূর্ণতা রয়ে যায়। এছাড়া নতুন জায়নামাজে ঈদের নামাজ পড়তে ভালো লাগে, তাই শেষ মুহূর্তে হলেও কিনে নিচ্ছি।

এই ব্যস্ততার ভিড়ে দরদাম করার সুযোগ কম। অনেকেই নির্ধারিত দামেই কিনে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় জিনিস। তবুও কারও মুখে বিরক্তি নেই—বরং ঈদের আনন্দই যেন সব কষ্ট ঢেকে দিচ্ছে।
চাঁদ রাতের এই কেনাকাটা শুধু প্রয়োজন মেটানোর বিষয় নয়, এটি এক ধরনের অনুভূতি। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বাজারে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা—এ যেন ঈদের আগের রাতের এক অনন্য ঐতিহ্য।
চাঁদ রাতের এই ব্যস্ততা শুধু বাজারের ভিড় নয়, এটি ঈদের আগমনী বার্তা। আতর, টুপি আর জায়নামাজের ছোট ছোট কেনাকাটার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পায় বড় একটি উৎসবের প্রস্তুতি। কারণ, ঈদ মানে শুধু আনন্দ নয়— ভালোবাসা, বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের এক সুন্দর মিলন।
এমআর/এএইচ

