রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গোলাম রসুল শিহাব (২১), রাফিন শেখ (২০), শাহারিয়ার নাজিম জয় (২০), সাগর ফকির (২৬) ও সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা (৩৮)।
বিজ্ঞাপন
গত রোববার শাহবাগ থানাধীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে রাকিবুল ইসলাম তার মোটরসাইকেল পার্ক করার পরপরই অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন যুবক তার ওপর হামলা চালায়। তারা পিস্তল দিয়ে পেছন থেকে একাধিক গুলি করে। এরপর রাকিবুল রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে লুটিয়ে পড়লে অজ্ঞাতরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বিএনপির শীর্ষ নেতারা ঈদ করবেন যেখানে
পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। ওই রাতেই শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনগণের সহায়তায় মো. গোলাম রসুল শিহাবকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য মতে, পরদিন সোমবার খুলনা জেলার লবনচরা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. রাফিন শেখ ও একই দিনে সন্ধ্যায় একই এলাকা থেকে শাহারিয়ার নাজিম জয়কে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানা এলাকা থেকে মো. সাগর ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে সিটিটিসির একটি টিম গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা খুলনা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিদের মূল হোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ভাড়াটে খুনি কাজ করে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এমআইকে/এমআই

