পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপনকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করুন। ঈদগাহ ময়দানে কোনো প্রকার ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসবেন না। ঈদ জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হবেন। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাবেন। প্রয়োজনে ৯৯৯ বা ম্যাসেজ টু কমিশনার (০১৩২০-০১০১০১০, ০১৩২০-০২০২০২০) এ ফোন করবেন। যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করবেন।’
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এখানে একত্রে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তন্মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতটি বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে মোট ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগের দিন রাজধানীতে তিনটি ঈদ জামাত ও শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’
নিরাপত্তার ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও ঢাকার অন্যান্য সকল স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সমন্বিত, সুদৃঢ়, সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের ঈদের জামাতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। প্রবেশ গেইটসমূহে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে। কন্ট্রোলরুম থেকে যা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি রাস্তার প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড থাকবে যেখানে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। যথা- মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষাভবন। ঈদ ময়দানের চারপাশে বহিঃবেষ্টনীতে তল্লাশি ব্যবস্থা থাকবে। ঈদ জামাতের চারদিকে পিকেট ব্যবস্থা ও লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেটে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে সকল মুসল্লিগণকে প্রবেশ করতে হবে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেইট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসি ডগ স্কোয়াড সুইপিং করবে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। সোয়াট ও সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্য মোতায়েন থাকবে। যাতে করে পুরো এলাকা ঘিরে আলাদা নিরাপত্তা বলয় তৈরি হবে। ওয়াচ টাওয়ার থাকবে; যেখান থেকে পুরো এলাকা মনিটরিং করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আমাদের সমন্বয় থাকবে। গোয়েন্দা সংস্থার সমূহের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় থাকবে। ফায়ার ব্রিগেডের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে। ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। বায়তুল মোকাররম কেন্দ্রিক আলাদা অনুরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকার অন্যান্য ঈদগাহ সমূহে প্রতিটি ক্রাইম বিভাগ আয়োজক সংস্থার সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একটি জামাতও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না।’
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বলেন, ‘ঈদগাহ কেন্দ্রিক ঈদ জামাত উপলক্ষে নগরীর কিছু কিছু পয়েন্টে ডাইভারশন থাকবে; সে গুলো হলো-জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেসক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পিছনের গলি, ইউবিএল ক্রসিং, কন্ট্রোলরুম গ্যাপ ও মৎস্যভবন ক্রসিং।’
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহে আগত সাধারণ মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে; সেগুলো হলো- গণপূর্ত ভবনের আঙিনায়/অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের, আইইবি'র ভিতরে, জিরোপয়েন্ট ক্রসিং ও ইউবিএল ক্রসিং (মুক্তাঙ্গন) এর উভয় পার্শ্বে, দোয়েল চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তর পার্শ্বে, ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে, মৎস্যভবন ক্রসিং এর পূর্ব দিকে কার্পেট গলি রোড ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে, মৎস্যভবন ক্রসিং হতে শাহবাগ ক্রসিং রাস্তার উভয় পার্শ্বে এক লাইনে থাকবে।’
প্রেস বিফ্রিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআইকে/এমআই
