১৬ বছরের কিশোর আসিফুর রহমানের বাড়ির সামনেই সাহাপাড়া খাল। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কৃষি কাজেও সহযোগিতা করেন স্কুল পড়ুয়া এই কিশোর। তবে জন্মের পর থেকে দিনাজপুরের কাহারোলের এই সাহাপাড়া খালে পানি দেখতে পারেননি। পলিমাটি জমে ভরাট হয়েছিল খাল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খালটি খননকাজ উদ্বোধন করতে আসছেন তাই আসিফের চোখেমুখে আনন্দের ঢেউ।
আসিফুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘জন্মের পর খালে পানির আসা-যাওয়া দেখিনি। এখন খাল কাটলে পানি আসবে, কৃষি কাজে উপকার হবে, বন্যার সময় পানি উঠবে না। এটা সত্যি আমাদের জন্য গর্বের।’
বিজ্ঞাপন
প্রায় ৫ দশক আগে বিএনপির রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছেন, হেঁটেছেন খাল খনন কর্মসূচিতে আসা শত শত নানা বয়সী মানুষজনকে নিয়ে। সোমবার সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অনুসরণ করছেন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দিনাজপুরের বলরামপুরের এই সাহাপাড়া খাল খননকাজ উদ্বোধন করতে আসছেন তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) খাল খননকাজ উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।
এই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের বোনের ছেলে তারেক রহমান। খালেদা জিয়া আমাদের বোন। তার ছেলে তারেক রহমান। এখন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী। বাবার মতোই ছেলে খাল কাটছে। শহীদ জিয়া মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কর্মসূচিতে যোগ দিতেন।’
সরেজমিনে দেখা যায়, বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল। এই খালটি দেখলে মনে হয় এটা খাল নয়। মাঝে মাটির স্তুপ। খালে পানির দেখা নেই।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা এলেই এই খালের পানি প্রবাহ সেইভাবে দেখা যায় না। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

গৃহবধূ শিউলী খাতুন বলেন, ‘হামরা ভালো নাই। সারা খাল হামাগো দুঃখ। তারেক রহমান এসেছেন, এবারের খালটি পুনঃখননে হয়ত হামাগো দুঃখ ঘুচবে।
দিনাজপুরের পশ্চিমে বলরামপুরের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন। ১২ কিলোমিটারের লম্বা সাহাপাড়া খালটি মিশেছে জেলার প্রধান নদী পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এই নদীর জলস্রোত ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে যা পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাহারোল এলাকায় এসেছেন বলে এই এলাকার মানুষজন উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছে।
সরু রাস্তা দিয়ে বলরামপুরের দূরত্ব ১২/১৩ কিলোমিটার। শিশু-কিশোর থেকে গ্রাম্য গৃহবধুরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখতে। অনেকে হাত নেড়ে জানিয়েছে শুভেচ্ছা।

আরেকজন বাসিন্দা ঢাকা মেইলকে বলেন, সাহাপাড়া খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এখানে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এই খালে পানি জমানো গেলে মাছ চাষ করা যাবে, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা গেলে সুবজ বনায়ন হবে।
খাল খনন করতে অন্য উপজেলা থেকে আসা একজন বলেন, আমাদের আজকে খুশি লাগছে। সবাই চলে আসছি। খাল কাটবো।
বিইউ/এফএ

