জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ এখন বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধীদের প্রধান হাতিয়ারেও পরিণত হয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। নানা লোভনীয় অফার, ভুয়া চাকরির সুযোগ কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।
হোয়াটসঅ্যাপে মূলত বিভিন্ন সুচতুর কৌশলে ফাঁদ পাতা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হলো ভুয়া চাকরির অফার। ঘরে বসে সহজে মোটা অঙ্কের টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও লাইক করার কাজ দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু টাকা প্রফিট হিসেবে দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করলেও পরবর্তীতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায় চক্রটি।
এ ছাড়া লটারি বা পুরস্কার জেতার ভুয়া বার্তা পাঠিয়েও সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হয়। অনেক সময় পরিচিত কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তার ছদ্মবেশে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের কাছে জরুরি চিকিৎসার কথা বলে বা বিপদে পড়ে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক কোডের অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিও কল বা অডিও কল দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব বা ডেস্কটপ সংস্করণে ম্যালওয়্যারযুক্ত ফাইল পাঠিয়ে কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করছে হ্যাকাররা।
এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছু মৌলিক সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অচেনা নম্বর থেকে আসা লোভনীয় অফার বা লটারির বার্তা এড়িয়ে চলুন। পরিচিত কেউ হুট করে টাকা ধার চাইলে বা কোনো আর্থিক লেনদেনের কথা বললে মেসেজের ওপর অন্ধভাবে ভরসা না করে সরাসরি তাকে ফোন করে বা সামনাসৌক্ষেপে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন। অজানা কোনো লিংক বা ফাইল কখনোই ডাউনলোড বা ওপেন করবেন না। হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা বাড়াতে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অন করে রাখুন এবং সেটিংস থেকে অচেনা নম্বর থেকে আসা কল মিউট করে দিতে পারেন। সামান্য সচেতনতাই পারে আপনাকে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থকে সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে।
এজেড




