* জেলার পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে
* বেশি দুর্ভোগ রাজধানীর পাম্পগুলোতে
* তেলের চলমান পরিস্থিতিতে বাসের যাত্রী পরিবহনে প্রভাব পড়েনি
জ্বালানি তেল সংগ্রহে ভোগান্তি এড়াতে কৌশলী হয়েছেন দূরপাল্লার বাসগুলোর সংশ্লিষ্টরা। তারা রাজধানী থেকে তেল না নিয়ে জেলার পাম্পগুলো থেকে নিচ্ছে। এতে তারা জ্বালানি সংগ্রহে বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন এবং যাত্রী পরিবহনেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থতির কারণে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলে যাতে ঘাটতি না হয় সেজন্য রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। ফলে রাজধানীর পাম্পগুলোতে তেল পেতে দীর্ঘ সারি ও জটলা তৈরি হচ্ছে। ঢাকা শহরে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি তেল নিতে ভোগন্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারপর মিলছে তেল। এ চিত্র গত কয়েক দিনের।
অন্যদিকে ঢাকা শহরে চলাচলকারী বাসগুলোর সংশ্লিষ্টরা পড়েছেন মহাবিপাকে। তারা বলছেন, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমানে তেল পাচ্ছেন না। তেল বিক্রিতেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। যারা তেলের পাম্পগুলোর আগের পরিচিত ও নিয়মিত তেল নেন তারাই বেশি তেল পাচ্ছেন। বাকিরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকছেন।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল নিতে পারছে। বাকিগুলো তেল ছাড়াই ফেরত যাচ্ছে। ফলে আগের মতো তারা যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে অবস্থান করে দূরপাল্লার বাস সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিকেলে টার্মিনালজুড়ে দেখা যায় বাসগুলোর সহকারীদের হাঁকডাক। বগুড়া, রাজশাহী, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, যশোর ও সাতক্ষীরা রুটের গাড়ীগুলো সারি সারি করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। কাউন্টারগুলোতে নেই কোনো ভিড়। তবে মাঝে মাঝে দুয়েকজন আসছেন আগাম টিকিট কাটার জন্য। তখন কাউন্টারে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়ে দিচ্ছেন আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা টিকিট ছাড়বেন। কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে তারা ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করবেন।
সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো টার্মিনালে স্বাভাবিক চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। কাউন্টারের বাইরে টিকেট হাতে হাঁকডাক করছেন কিছু লোক। তারা যাত্রী পেলেই চলন্ত বা দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোতে তুলে দিচ্ছেন।
গাবতলী থেকে রংপুর রুটে চলাচল করে টিআর পরিবহনের বাসগুলো। পড়ন্ত বিকেলে কোম্পানিটির একটি দরজায় দাঁড়িয়ে যাত্রীর জন্য হাকডাক করছিলেন আসাদুল হক।
বিজ্ঞাপন
বাসের তেল নিতে কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে আসাদুল হক বলেন, কিসের কষ্ট। আমরা বগুড়ায় তেল নেই। যাওয়া আসার পথে তেল সংকট হলেই পাম্পে ছুটে যাই। তেলও পাচ্ছি। কোনো সংকট নাই। যতোটুকু দরকার ততোটুকুই পাচ্ছি।

সেখান থেকে একটু খানিকটা এগিয়ে দেখা গেল, ঢাকা টু মেহেরপুর পরিবহনের জেআর নামে একটি বাসে যাত্রী ভাসমান তোলার জন্য টিকেট হাতে যাত্রী খুঁজছেন বিক্রয় কর্মী ফয়সাল। তিনি এই প্রতিবেদককে জানালেন, তাদের ঢাকায় তেল নেওয়ার কোন ঝামেলা নেই। তারা ঢাকা থেকে মেহেরপুর বাস যাওয়া-আসা করার জন্য যা তেল লাগে সবটাই জেলা থেকে নিয়ে আসেন। ফলে তাদের ট্রিপে কোনো প্রভাব পড়ছে না।
ফয়সাল জানান, তারা মেহেরপুর থেকে তেল নিয়ে ঢাকায় ঢোকেন। তাদের আসা যাওয়া মিলে ১২০ লিটার তেল নিলেও সবটাই লাগে না। প্রতি লিটারে তাদের গাড়ি তিন কিলোমিটার যেতে পারে। ফলে যা তেল নেন তাতেই কাভার করে পুরো সড়ক।
শিশির পরিবহন নামে একটি গাড়ির জয়নাল নামে আরেকজন জানালেন, তাদের গাড়ি ঢাকা টু বগুড়া ও রংপুর রুটে যাতায়াত করছে। তারা সময় মতো যাত্রীও পরিবহন করছেন। সরকার যে ৮০ লিটার তেল দিচ্ছে তা নিতে তাদের কোন ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে তারা ভোগান্তি এড়াতে জেলার পাম্প থেকে তেল নিচ্ছেন।
পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করে অন্তত ২০টি কাউন্টারে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা হলো এই প্রতিবেদকের।
ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জয়ন্ত রায় ঢাকা মেইলকে বলেন, তাদের বাসগুলো জেলা থেকে আসতে যেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে গত পরশু একটি বাসের তেল সাভারের দিকে যেতে শেষ হয়ে যায়। পরে সেটি তিনটি পাম্প ঘুরেও তেল পায়নি। অবশেষে দুটি পাম্প থেকে ভেঙ্গে ৭০ লিটার তেল পান তারা। তার মতে, দূরপাল্লার বাসগুলো তেল পেতে তেমন ভোগান্তি নেই। কারণ অধিকাংশ বাস জেলা থেকে তেল নেয়। ফলে তারা তেলের সংকট তেমন বুঝতেও পারছে না।
ঢাকা থেকে যশোর ও সাতক্ষীরা শ্যামনগর রুটে যাতায়াতকারী বাস সুন্দরবন লাইন। পরিবহনটির কাউন্টার ম্যানেজার কবির জানালেন, তাদের গাড়িতে তেল পেতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে তারা সাতক্ষীরার পাম্পগুলোতে তেল পাচ্ছেন না।
দূরপাল্লার বাসগুলোর তেল পেতে তেমনি ভোগান্তি না থাকলেও ঢাকা মহানগরী ও ঢাকা জেলার মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর সংশ্লিষ্টরা পড়েছেন বিপাকে।
গাবতলীতে রাজধানী পরিবহনের ভাসমান কাউন্টারের কয়েকজন ব্যক্তি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা তো আগের মতো বাস চালাতে পারছি না। সরকার যে ৮০ লিটার তেল দিতে বলছে তাতে আগের মতো ট্রিপ মারতে পারছি না। ফলে আয়ও হচ্ছে না।
তারা আরও জানান, সায়েদাবাদ থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত আগে সারাদিন কয়েকবার ট্রিপ দিতে পারলেও গত কয়েক দিন থেকে তা কমে এসেছে। সড়কে যানজট ও তেলের সমস্যায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
তাদের দাবি, অধিকাংশ তেল পাম্পগুলোতে তেল মিলছে না। আবার মিললেও তা কম। তারা ৮০টি গাড়ি তেলের জন্য পাঠালে মাত্র ২০টিতে তেল দিয়ে পাম্পগুলোর সংশ্লিষ্টরা তেল দেয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
এমআইকে/

