দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে আবেদন করলেই সবাই এই কার্ড পাচ্ছেন না; সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়পত্র থাকা পরিবারগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
যারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, থাকছে যেসব সুবিধা
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৩৭,৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে এই কার্ডের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পরবর্তীতে ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই কার্ডে থাকছে আধুনিক কিউআর কোড (QR Code) এবং এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি, যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।
জানানো হয়েছে, একটি কার্ডের বিপরীতে ৫ জন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ এর বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার সুযোগ থাকছে।
যারা পাবেন না ফ্যামিলি কার্ড
স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিচের ক্যাটাগরির পরিবারগুলো এই কার্ডের আওতায় আসবে না:
১. সরকারি সুবিধাভোগী: পরিবারের কোনো সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন, ভাতা বা পেনশন পেয়ে থাকেন।
২. শিক্ষক-কর্মচারী: নারী পরিবার প্রধান যদি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হন।
৩. পরিবারের নামে গাড়ি, এসি বা এ জাতীয় বিলাসবহুল সম্পদ থাকলে।
৪. পরিবারের নামে কোনো বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে।
৫. যদি কোনো পরিবারের নামে ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি অংকের সঞ্চয়পত্র থাকে।
৬. নারী প্রধান যদি ইতোমধ্যে অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, তবে ফ্যামিলি কার্ড নিলে পূর্বের সুবিধাটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
আর ভাতার টাকা ‘জি-টু-পি’ (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
জানা গেছে, আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য ৩৮ দশমিক ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
বিইউ/এফএ

