মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘গণভোট ও জুলাই সনদ উপেক্ষা করলে বর্তমান সরকারের কোনো বৈধতা থাকবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘গণভোট ও জুলাই সনদ উপেক্ষা করলে বর্তমান সরকারের কোনো বৈধতা থাকবে না’
সিপিএএ-এর ‘নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশ: গণভোটের অঙ্গীকার, জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তরা। ছবি- ঢাকা মেইল

গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদকে উপেক্ষা করলে বর্তমান সরকার ও সংসদেরও কোনো রাজনৈতিক বৈধতা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। 

সোমবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির (সিপিএএ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশ: গণভোটের অঙ্গীকার, জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন। 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ও সিপিএএ-এর সভাপতি ড. মো. শরিফুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ-সাউর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। 

সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন- সিপিএএ-এর সহসভাপতি ও সাবেক সচিব আবদুল কাইউম, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, মানারাত ইন্টারন্যাশলাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুর রব, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শাফিউল ইসলাম, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সির্টির সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও বিশিষ্ট নারী নেত্রী মারদিয়া মমতাজ। 

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের পাটাতনের উপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জুলাইয়ের অঙ্গীকার অর্থাৎ রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার করার কোনো বিকল্প নেই। গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে। ফলে জুলাই সনদ এবং সংস্কার উপেক্ষা করার কোনো নৈতিক ও আইনি বৈধতা নেই।’ 

জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অবদমিত করতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা আত্মঘাতী হবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। 

তারা বলেন, ‘যদি গণভোট ও জুলাই চেতনাকে উপেক্ষা করা হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে। জুলাই বিপ্লবকে বাদ দিয়ে বর্তমান সংসদের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।’

১৯৯৬ এবং ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টার উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘এর ফলে জাতি রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। তাই আমাদের উচিত খোলামনে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষা দেওয়া।’ 

সংসদের বিরোধী দলকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, গণভোটের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ছাড়া সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করা যাবে না। সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর