রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকার রায় সাহেব বাজারে স্টার কাবাব এ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এক গ্রাহককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে ভুক্তভোগীর নাম পরিচয় জানা যায়নি।
শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারি পণ্যের দাম বেশি রাখায় প্রথমে কথা কাটাকাটি পরে তা হামলায় রূপ নেয়।
বিজ্ঞাপন
পরে এ ঘটনাটি রাত থেকে পুরান ঢাকা এলাকার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গ্রুপে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেসবুক জুড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল দাবি থানার ওসির।
সূত্রাপুর থানার ওসি মশিউর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।

ভিডিওটির সূত্র ধরে বনানী ও পুরান ঢাকার কয়েকটি থানায় যোগাযোগ করা হয়। এরপর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে এই ঘটনাটি পুরান ঢাকার প্রায় সাহেব বাজারের স্টার কাবাব হোটেলে ঘটে।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪২ মিনিট সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে ১৫ থেকে ২০ জন লাল পোশাক ( হোটেলটির বিশেষ পোশাক) হামলা করছে। কেউ হাত দিয়ে, কেউ গ্লাস ছুড়ে মারছে আবার কেউ কেউ চেয়ার ছুঁড়ে মারছে তার দিকে। হামলার শিকার সেই ব্যক্তি বারবার নিজের মাথা ও মুখকে সংরক্ষিত করার চেষ্টা করছেন। এক একটি চেয়ার তার মাথায় লাগে এর ফাঁকে হোটেলটির এক কর্মীর ছুঁড়ে মারা

একটি গ্লাস তার মাথায় আঘাত করে। এতে মাথা না ফাটলেও তিনি হাত দিয়ে মাথা ও কপাল চেপে ধরে মেঝেতে বসে পড়েন। এসময় হোটেলের কর্মীরা কিছুটা শান্ত হন। অপর কর্মীরা অন্যদের থামানোর চেষ্টা করছে৷ তবে এর মাঝেও এক বিরল দৃশ্য সবার নজর কেড়েছে। আর তা হলো মারামারির মাঝে হোটেলটির একটি টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে এক ক্রেতা। তার এমন খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্যও করেছেন।
তবে এ ঘটনায় কেউ কেউ হামলার শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ করলেও বেশির ভাগ কমেন্টকারী জানিয়েছে, ক্রেতা ভুল করলেও হোটেলটির কর্মীরা তাকে এক যোগে হামলা করতে পারে না। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এর আগে বনানী স্টারের বনানী ক্রেতাকে রক্তাক্ত করা হয়েছিল:
খোঁজ জানা গেছে, এর আগে, ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর বনানীর ৬ নং রোডের শাখায় সাংবাদিক সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলক নামে এক সংবাদ কর্মীকে মারধর করে রক্তাক্ত করেছিল হোটেলটির কর্মীরা। পরে হোটেলটির সিইও এস. এম. মনিরুজ্জামান লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন এমন ঘটনার আর পূর্ণাবৃত্তি না ঘটবে। কিন্তু ১৭ মাস না যেতেই এবার পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার এলাকার শাখায় একই ঘটনা ঘটলো।
বনানীর ঘটনায় স্টার কাবাব এ্যান্ড রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ও স্টার কাবাব পরিবার নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তারা প্রতিশ্রুতি দেয় যে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা তাদের সার্ভিস ও খাবারের মান আরও উন্নত করবেন। তবে সে ঘটনায় তারা
সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলেও তিনি তা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এবং ক্ষমার শর্ত স্বরুপ ১০০০ এতিমকে একবেলা বিনামূল্যে খাবার দিতে বলেন। তারা তার শর্ত মেনে ১০০০ এতিম শিশুকে সেই বছরের অক্টোবরে এতিমখানায় একবেলা উন্নতমানের খাবর পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি দেন।
এমআইকে/

