শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, রেশনিংয়েও কমছে না ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, রেশনিংয়েও কমছে না ভিড়
রাজধানীর বাড্ডা ও তার আশপাশের এলাকায় তেল নিতে আসা গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ছবি: ঢাকা মেইল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেল বিক্রিতে রেশনিং আরোপ করে আশ্বাস দিলেও রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় কমার কোনো লক্ষণ নেই।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকালে রাজধানীর বাড্ডা ও তার আশপাশের এলাকায় তেল নিতে আসা গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গত ৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আতঙ্কজনিত তেল কেনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন


এছাড়া রামপুরা, বনশ্রীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও অকটেন ও পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেক চালককে।

ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানায়, তেলের চাপ সীমাহীন। আমরা কম কম তেল দিচ্ছি তাও দিয়ে কুল পাচ্ছি না। আগামীকাল (৮ মার্চ) স্থানীয় ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানান তিনি।

image


বিজ্ঞাপন


হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চাপ সামলাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন নির্দেশনায় মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার, এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস ও ভারী যানবাহনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে।

পাম্পের এক অপারেটর জানান, ভোর ৪টার দিকেই তাদের অকটেন ও পেট্রোলের মজুত শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের পর আর তেল পাওয়া যায়নি। আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, ফলে সংকট আরও বাড়ছে।

তেল নিতে এসে ভোগান্তির কথা জানান বাইক চালক শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, সাতটি পাম্প ঘুরেও তেল পাননি। কোথাও স্টক নেই, আবার কোথাও দাম বাড়ার অপেক্ষায় তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পাশের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি হলেও বাইরে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রমনা পেট্রোল পাম্পে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর মাত্র ২ লিটার তেল পান চাকরিজীবী লিমন হাসান। তিনি বলেন, সামনে অফিসে যাতায়াত নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। অন্তত ৫ লিটার তেল পেলে কিছুটা স্বস্তি পেতেন।

image

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বরাদ্দ ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি জরুরি খাতকে অগ্রাধিকার দিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহও ৫০ এমএমসিএফডি কমানো হয়েছে।

সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত প্রায় সাত দিনের এবং অকটেনের মজুত প্রায় ১৫ দিনের মতো রয়েছে।

তবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মানুষের উদ্বেগের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তবে মজুত শেষ হয়ে যায়নি বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, বাফার স্টক বাড়াতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে জি-টু-জি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং আফ্রিকার বিভিন্ন সরবরাহকারীর সঙ্গে আলোচনাও চলছে।

এমআর/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর