রজাধানীর পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে এক বিদেশগামীর টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী পল্টন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তবে, পল্টন থানা পুলিশের দাবি, টাকা আত্মসাৎকারী যে নাম পরিচয় দিয়েছে সে নামে পল্টন থানায় কোন অফিসার নেই।
এ ঘটনায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী মো. ফয়সাল আহমেদ সরকার পল্টন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। যেখানে পল্টন থানা পুলিশের এসআই লিয়াকত আলী সরকার পরিচয়ে তার টাকা আত্মসাৎ এর কথা উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী পল্টন থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মোজাম্মেল হক ভূইয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে টাকা দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরছেন। এরপর ফকিরাপুল এলাকার একটি হোটেলে তার সন্ধান পেয়ে তার সাথে টাকার বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানার সামনে লিয়াকত আলী সরকার নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি নিজেকে পল্টন থানার অফিসার পরিচয় দেন। এরপর তিনি আমার টাকা তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি আমাকে বলেন, থানায় অভিযোগ করলে টাকা পেতে দীর্ঘ সময় লাগবে বরং তিনি বিষয়টি সমাধান করে দিবেন।
এরপর তিনিসহ আমরা হোটেলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে এসআই এর পরামর্শে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করি। এরপর চুক্তিতে দেওয়া সময়ে আমি তাদের কাছে টাকা চাইতে গেলে তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি আমি ওই এসআই কে জানালে তিনি আমার থেকে স্ট্যাম্পগুলো চায়। তিনি বলেন, আমার কাছে স্ট্যাম্পগুলো দেন আমি টাকা তুলে দিবো। এ বলে আমার থেকে স্ট্যাম্পগুলো নিয়ে সে আমার অজান্তে টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে।
এ নিয়ে আমি কয়েক দফায় তার কাছে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত চাইলে সে আমাকে তা ফেরত দেয়নি। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। এরপর বিষয়টি নিয়ে আমি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেই।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের থানায় লিয়াকত সরকার নামে কোন অফিসার নেই। পল্টন থানার অফিসার পরিচয়ে একজনের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। কিন্তু ভুক্তভোগী আমাদের সঙ্গে এরপর কোন যোগাযোগ করেনি। এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি এখনো।’
একেএস/এমআই

