বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বহু বছর পর বৃহত্তর যশোরের সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারে ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমাদের অনেক মানুষ রয়েছেন। অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, বাবু নিতাই রায় চৌধুরীসহ আমরা যারা মন্ত্রিপরিষদে আছি, সচিবালয়ে অনেক সচিব-কর্মকর্তা আছেন, সবার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কাজ করতে পারলে যশোরের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে যশোর সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা আয়োজিত ‘ঐতিহ্যের যশোর: আগামী পথচলা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী। যশোর সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার আহবায়ক মাহমুদ সোহেলের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, ঝিকরগাছা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানা মুন্নি, যশোরের সাবেক জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম, বৃহত্তর যশোর সমিতি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ডা. নাসির উদ্দীন, যশোর জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল কবীর চঞ্চল, এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, বাংলানিউজ২৪ ডট কমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম, খুলনা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সাবেক সভাপতি মধূসুদন মন্ডল, খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক নাসির আহমদ রাসেল, সহ-সভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, যশোর সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা’র সদস্য সচিব নাজিম উদ দৌলা সাদি। মুখ্য সংগঠক হাসান ওয়ালীর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আহসান কবীর, তানভীর হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব হাবিবুল ইসলাম, খাজা মেহেদি শিকদার, রকি আহমেদ, মুতাসিম বিল্লাহ, এফ এ শাহেদ, আব্দুস সালাম আজাদ, এ আর আজাদ, পলিয়ার ওয়াহিদ, বায়েজিদ হুসাইন, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
আরও পড়ুন
জন্মস্থানে ফিরে আবেগঘন ভালোবাসায় সিক্ত প্রতিমন্ত্রী অমিত
অমিত প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় যশোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পদ ও পজিশন বিবেচনায় নিয়ে সম্পর্ক তৈরি করলে তা টেকসই হয় না মন্তব্য করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা যখন খুব সফল বা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তখন একটি বলয়ে নিজেদের আবদ্ধ করে ফেলি। এই জায়গা থেকে সরে আসতে না পারলে সামষ্টিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সম্পর্ক সময়ের সাথে পরিবর্তিত না হয়ে স্থায়ী হওয়া উচিত। পদ-পজিশন বিবেচনায় নিয়ে সম্পর্ক তৈরি হলে তা টেকসই হয় না।
বিজ্ঞাপন
প্রয়াত পিতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যশোর সমিতি যখন তৈরি হয়, তখন একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার জন্য বাবার উদ্যোগ ছিল। সমিতির সব আয়োজনে তিনি প্রধান অতিথি হতেন। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হলে তাকে আর অতিথি করা হতো না। ২০০১ সালে আবার মন্ত্রী হলে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়। তখন বাবা বলেছিলেন, দাওয়াত আসলে পদ-পদবির ওপর নির্ভর করে, সম্পর্কের ওপর নয়। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের উন্নতি কঠিন।
ঐক্য না থাকার কুফল তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে যশোরের দুই জন সভাপতি পদে দাঁড়িয়ে দুজনই হেরেছেন। আমি আগেই বলেছিলাম, দুজন মিলে একজন ঠিক করেন। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। একা ভালো থাকার চেষ্টা না করে সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করলে সফলতা আসবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এজন্য সবার মাঝে একটি মেলবন্ধন তৈরি করতে হবে। এই মাটির প্রতি যদি দায়বদ্ধতা থাকে তাহলে আমরা সকলে ভালো থাকবো। আসুন আমরা সকলে হাতে হাত মিলে, কাধে কাধ মিলে যশোরের উন্নয়নে কাজ করি।
জেবি

