আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান এলাকা থেকে জাফর উল্যাহকে পুলিশ আটক করে। ডিবি কার্যালয়ে আনার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতেই তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়।
সুস্থ হওয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত পল্টন থানার এক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বেনামি হিসাব খুলে ব্যাংকে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা রাখার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলায় ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা, কমিশনার উপপরিচালক শারিকা ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানি নির্ধারণ করেন। শুনানিতে হাজির করা হলে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
আবেদনে বলা হয়েছে, “কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এজাহার অনুসারে, তিনি দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১০টি এফডিআর হিসাব খোলেন। এতে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা থাকে। পরে অতিরিক্ত ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সুদ নিয়ে এবং ভুয়া গ্রাহকের নামে নগদ উত্তোলনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন করেন। এই কারণে দুদক মামলা দায়ের করে।”
দুদক উল্লেখ করেছে, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
কাজী জাফর উল্যাহ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এআর

