- দুই শতাধিক আইটেমে সাজানো বিস্তৃত বুফে
- নির্দিষ্ট ব্যাংকে ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ সুবিধা
- নির্দিষ্ট কার্ডে একটি কিনলে চারজন খাওয়ার সুযোগ
- দেশীয় ঐতিহ্যবাহী ইফতার আইটেম অন্তর্ভুক্ত
- এক কেজি জিলাপির দাম ৪ হাজার টাকা
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা মাসব্যাপী বিশেষ বুফে ইফতার, ডিনার ও সাহরির আয়োজন করেছে। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে দেশীয় ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলীর সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে থাকছে ঐতিহ্যবাহী দেশীয়, ভূমধ্যসাগরীয়, আরবি এবং উপমহাদেশীয় সুস্বাদু খাবারের সমারোহ। পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ব্যাংক এশিয়ার সহযোগিতায়।
বিজ্ঞাপন
দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার সিজনাল টেস্টস বিভাগে অতিথিদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাইয়া হাঁড়ি গোশত, অক্সটেইল স্ট্যু, প্রিমিয়াম ল্যাম্ব শ্যাংক এবং আরবি কাবসা। মিষ্টান্ন তালিকায় থাকছে তুর্কি তুলুম্বা, পিস্তাচিও বাকলাভা ও লাইভ কুনাফা। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজানের ঐতিহ্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক স্বাদের সমন্বয়ই এবারের মূল ভাবনা।
বুফে ইফতার ও ডিনারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ১১ হাজার ৯৯০ টাকা। বিশেষ বুফে সাহরি পরিবেশন করা হয় প্রতি শুক্রবার, শনিবার এবং সরকারি ছুটির আগের রাতে। সাহরির মূল্য জনপ্রতি ৬ হাজার ৯৯০ টাকা। সব মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অফারের ক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি ব্যাংকের নির্বাচিত কার্ডধারীরা ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নির্দিষ্ট কার্ডে ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কার্ড ব্যবহার করলে একটি মূল্যে চারজন ইফতার উপভোগ করতে পারবেন। ব্যাংক এশিয়ার কার্ডধারীরা পুরো রমজান মাসজুড়ে ইফতার, ডিনার ও সাহরিতে এই বিশেষ অফার ব্যবহার করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
ঘরে বসে ইফতার উপভোগের জন্য তিন ধরনের প্রিমিয়াম ইফতার বক্স প্রস্তুত করেছে হোটেলটি। প্লাটিনাম বক্সের মূল্য ১১ হাজার ৯৯০ টাকা, গোল্ড বক্স ৮ হাজার ৯৯০ টাকা এবং সিলভার বক্স ৭ হাজার ৯৯০ টাকা। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী শাহি হালিম ও জিলাপি আলাদাভাবে সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত কার্যক্রমের মাধ্যমে অতিথিরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার বা বিশেষ অফার জেতার সুযোগও পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও মেনুতে নতুনত্ব আনা হয়েছে। অতিথিদের জন্য বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। এবারের বিশেষ সংযোজন হিসেবে লবস্টার রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পেশোয়ারি মাটন হালিম, আফগান বিফ হান্ডি, বিফ হান্ডি, প্রাইম রিব আই, আরবিক শাওয়ারমা এবং গতবারের জনপ্রিয় গ্রিল স্যামনও মেনুতে রয়েছে। রমজানের ঐতিহ্য ধরে রেখে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাদের সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শুধু ভারী মাংসভিত্তিক খাবার নয়, স্বাস্থ্যসম্মত পদকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে প্রায় ২০ ধরনের জুস রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিন কোকোনাট ওয়াটার, তাজা ফলের জুস এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয় রয়েছে। তাজা নারকেলের ব্যবস্থাও আছে। মোট ২০০টির বেশি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাত এবং সরকারি ছুটির আগের দিন বিশেষ আয়োজন থাকবে।

কার্ডভিত্তিক ছাড়ের কারণে পরিবার ও করপোরেট গ্রুপের উপস্থিতি বাড়ছে বলে জানা গেছে। অতিথিদের মতে, পাঁচতারকা মানের পরিবেশে নানা ধরনের খাবারের পাশাপাশি ব্যাংক অফারের কারণে ব্যয় তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হচ্ছে।
পরিবার নিয়ে ইফতারে আসা আরমান মালিক নামের এক ব্যক্তি জানান, তারা ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ সুবিধা ব্যবহার করে চারজন একসঙ্গে ইফতার করেছেন। পরিবেশ ছিল শান্ত ও আরামদায়ক। ডেজার্ট ও স্টেক আইটেম বিশেষভাবে প্রশংসা পেয়েছে। অন্য অতিথিরাও মাংসভিত্তিক পদ, কাবাব, গ্রিল, আন্তর্জাতিক খাবার ও নান রুটির মানের প্রশংসা করেন। লাইভ কুকিং স্টেশন আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করেছে বলেও অনেকে মত দেন।
আব্দুল বাতেন জানান, তিনি তাঁর দুই বন্ধুসহ মোট তিনজন মিলে ইফতার উপভোগ করতে এসেছেন এবং ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ অফারটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, এই সুবিধার কারণে একই মূল্যে তিনজনের খাবার উপভোগ করা সম্ভব হয়েছে, যা তাদের জন্য বেশ সাশ্রয়ী অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, পাঁচতারকা মানের পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে বসে ইফতার করা সত্যিই আনন্দদায়ক। খাবারের বৈচিত্র্য তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে, বিশেষ করে মাংসভিত্তিক পদ, কাবাব ও গ্রিল আইটেমগুলো তাদের ভালো লেগেছে। নান রুটির মান ও তাজা পরিবেশনও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, পুরো আয়োজনের পরিবেশ ছিল শান্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। ভিড় থাকলেও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে খাবার গ্রহণে কোনো অসুবিধা হয়নি। ডেজার্ট টেবিল এবং পানীয়ের সমাহারও তাদের সন্তুষ্ট করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি বিশেষ অফারে ইফতার করার সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আয়োজকরা বলছেন, রমজানে খাবারের পরিমাণের পাশাপাশি মান ও ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশীয় ঐতিহ্য, মধ্যপ্রাচ্যের স্বাদ ও আধুনিক রান্নার সমন্বয়ে মেনু সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পর্যাপ্ত পানীয় ও বিস্তৃত ডেজার্ট তালিকা এই বুফের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

এদিকে ইফতারির অন্যতম জনপ্রিয় অনুষঙ্গ জিলাপি। রমজান ঘিরে পাঁচতারকা হোটেলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জিলাপির চাহিদা বাড়ে। বাজারে হোটেলভেদে প্রতি কেজি জিলাপির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এর মধ্যে গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় জাফরান মিশ্রিত জিলাপির দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা। এখানে ১০ ধরনের জিলাপি পাওয়া যায়। রেশমি ও জাফরান দিয়ে তৈরি জিলাপির পাশাপাশি চিনিমুক্ত জিলাপিও রয়েছে। তবে সাধারণ বাজারে ধরনভেদে কেজি প্রতি ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় জিলাপি বিক্রি হচ্ছে। ঘিয়ে ভাজা বা তিলযুক্ত জিলাপির দাম ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার সিজনাল টেস্ট রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থাপক ইমরান আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, এ বছর রমজান উপলক্ষে হোটেলে ১০ ধরনের স্বাদের বিশেষ জিলাপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রেশমি ও জাফরান মিশ্রিত জিলাপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তিনি জানান, প্রতিবারের মতো এবারও মান ও স্বাদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে অতিথিরা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা পান। জাফরানের সুবাস ও রেশমি টেক্সচারের সমন্বয়ে তৈরি এই জিলাপি অতিথিদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে এবং রমজানজুড়েই এর চাহিদা থাকে উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সচেতন অতিথি এবং ডায়াবেটিস রোগীদের কথা বিবেচনা করে এবার চিনিমুক্ত জিলাপিও তৈরি করা হচ্ছে। স্বাদ অটুট রেখে বিশেষ উপাদান ব্যবহার করে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে যারা চিনি এড়িয়ে চলেন তারাও উপভোগ করতে পারেন। তার ভাষায়, নিজস্ব ও গোপন রেসিপির মাধ্যমে প্রস্তুত প্রণালীই ওয়েস্টিনের জিলাপিকে আলাদা করেছে। এই বিশেষ কৌশল ও মান বজায় রাখার কারণেই রমজান এলেই ওয়েস্টিনের জিলাপির প্রতি অতিথিদের আগ্রহ বাড়ে।
এএইচ/জেবি

