অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাত খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ইকরার স্বামী ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে। তবে তারা পলাতক থাকায় পুলিশ এখনো তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে এ মামলা করেছেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।
রোববার রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজিম আহমেদ।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা সবেমাত্র মামলাটি হাতে পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্তের প্রাথমিক অংশ হিসেবে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর থেকে নিহতের স্বামী, শাশুড়িকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কেউ থানায়ও আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা পলাতক। তাদের কাউকে এখনো ধরা যায়নি।
এর আগে দুপুর ২টায় পল্লবী থানায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি তার মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচণাদানকারী হিসেবে আলভী ও তার মা শিউলিকে আসামি করেন। মামলায় পারিবারিক কলহের জেরে ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মরদেহ বুঝে পেয়ে ময়মনসিংহের ভালুকার রানদিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন ইকরার স্বজনরা। সন্ধ্যার পর মরদেহ দাফন করেন তারা। ইকরার গ্রামে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ঘটনার সময় সেই বাসায় উপস্থিত ছিল না অভিনেতা আলভী। তিনি ঈদুল ফিতরের একটি নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছেন। শনিবার থেকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ইকরার মৃত্যুর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু ব্যক্তিগত আলাপের স্ক্রিনশট ফাঁস হয়, যেখানে আলভীর বিরুদ্ধে এক সহঅভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলেন ইকরা।
দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের বঞ্চনা, পরকীয়া আর চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে ইকরা এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।
এমআইকে/ক.ম

