রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

গ্রেফতার এড়াতে সিসি ক্যামেরা বসিয়েও শেষ রক্ষা হলো না প্রতারকের!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

গ্রেফতার এড়াতে সিসি ক্যামেরা বসিয়েও শেষ রক্ষা হলো না প্রতারকের!
সিআইডির হাতে গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটির এক সদস্যের নামে অর্ধডজনের বেশি মামলা থাকলেও তিনি ছিলেন অধরা। বাসার সামনে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে পুলিশি তৎপরতা নজরে রাখতেন তিনি। পুলিশ গেলেই আগেভাগে সরে পড়তেন। শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সিআইডি তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


বিজ্ঞাপন


সিআইডি বলছে, তার নামে অর্ধডজন মামলা রয়েছে। এসব মামলা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেফতার এড়াতে বাসাসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে সিআইডির অভিযানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার সাতমাথা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী একটি পুরোনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এ ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম ও প্রতারক চক্রের অন্য একজন সদস্য (পলাতক) জাল নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে প্রস্তুত মালিকানা হস্তান্তর-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদর্শন এবং গাড়ির কথিত মালিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি পুরোনো গাড়ি বিক্রি করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়।

পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে অনলাইনে যাচাই করে জানা যায়, গাড়িটির মালিকানা অন্য ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতারক চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে প্রথমে গাড়িটি বিক্রি করে এবং পরে কৌশলে অন্যের নামে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা তৈরি করে। পরে ক্রেতাকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে তারা। সংঘবদ্ধ প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত বছরের জুন মাসে ক্যান্টনমেন্ট (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্তকালে সিআইডি জানতে পারে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন রেন্ট-এ-কার মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জাল মালিকানা চুক্তিনামা ও রশিদপত্র তৈরি করে তা বিক্রি করে আসছিল। তিনি নিজেকে বিভিন্ন কোম্পানির এমডি, বার্তা সম্পাদক ও চ্যানেলের পরিচালক পরিচয় দিতেন। তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা শারমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে প্রতারণার নানা কৌশল অবলম্বন করতেন। প্রতারক চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে প্রথমে গাড়িটি বিক্রি করে এবং পরে কৌশলে অন্যের নামে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা তৈরি করত। পরবর্তীতে গাড়ির ক্রেতাকে হয়রানি, হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করত চক্রটি।


বিজ্ঞাপন


এমআইকে/আর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর