বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শহীদ সেনা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শহীদ সেনা দিবস পালিত

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতর পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর শহীদ সেনাসদস্যদের ১৭তম শাহাদত বার্ষিকী স্মরণে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ আজ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বনানীস্থ সামরিক কবরস্থানে শহীদদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শাহাদত বরণকারী সেনাসদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও শহীদ পরিবারের সদস্যগণ।

শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ স্যালুট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এছাড়া দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মসজিদসমূহে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

tareque-1
পিলখানায় নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–বিজিবি) সদর দফতর ঢাকার পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। সব মিলিয়ে তখন পিলখানায় নিহত হন ৭৪ জন। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন।

পিলখানায় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়। বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায় দেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে খালাস পান ২৭৮ জন।

রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান। ফৌজদারি কোনো মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কারও মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যেটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।

পিলখানা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন।

tareque-2
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে বিডিআর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। রায়ে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২২৮ জনকে। খালাস পান ২৮৩ জন। হাইকোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬১ জন আসামি মারা গেছেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ২২৬ জন আসামির পক্ষে পৃথক ৭৩টি আপিল ও লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হয়েছে। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে যারা খালাস পেয়েছেন এবং যাদের সাজা কমেছে, এমন ৮৩ জন আসামির বিষয়ে ২০টি লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ শুনানি হবে আপিল বিভাগে।

হাইকোর্টের রায় প্রকাশ হওয়ার পর ২০২০ সালে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ ২০২১ ও ২০২২ সালে পৃথক আপিল ও লিভ টু আপিল করে। আসামিপক্ষের আপিল ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে ওই আপিল। এরই ধারাবাহিকতায় ওই আপিল গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৬৬৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর