মন্ত্রিসভার তিনটি কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। সেগুলো হলো- জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
কোন কমিটিতে কে প্রধান
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একনেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিতে পরিকল্পনা, কৃষি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শিক্ষা, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। সংশ্লিষ্ট এজেন্ডাভুক্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন
কমিটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা ও অনুমোদন, বাস্তবায়ন তদারকি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। বেসরকারি বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাব বিবেচনা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেবে কমিটি। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বিজ্ঞাপন
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি
এ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। সদস্য হিসেবে থাকবেন পরিকল্পনা, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। সংশ্লিষ্ট ক্রয় প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সদস্য হিসেবে যুক্ত হবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটিকে সহায়তা করবেন।
এ কমিটির প্রধান দায়িত্ব হলো উচ্চমূল্যের সরকারি ক্রয় প্রস্তাব পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেওয়া। সরকারের আর্থিক বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকার বেশি এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্রয় প্রস্তাব এ কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে। জাতীয় বিভিন্ন প্রকল্পের পণ্য ও সেবা ক্রয়েও স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কাজ করবে কমিটি।
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি
এ কমিটির চেয়ারম্যানও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সদস্য হিসেবে থাকবেন পরিকল্পনা, কৃষি, শিক্ষা, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সদস্য হিসেবে অংশ নেবেন।
কমিটির দায়িত্ব হলো কৌশলগত অর্থনৈতিক নীতি ও আর্থিক বিষয়াদি পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে এমন বড় অঙ্কের আর্থিক অঙ্গীকারসংক্রান্ত প্রস্তাব মূল্যায়ন করবে কমিটি।
এছাড়া অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করাও এ কমিটির দায়িত্ব। এ কমিটিকেও সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এএইচ

