বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

প্রশাসক নয়, নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতেই স্থানীয় সরকার চায় আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রশাসক নয়, নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতেই স্থানীয় সরকার চায় আইপিডি

দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। 


বিজ্ঞাপন


সংস্থাটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আইপিডির মতে, সম্প্রতি ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের নিয়োগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বশীল চরিত্রকে আরও দুর্বল করতে পারে। একতরফা এ ধরনের নিয়োগ স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা নবগঠিত সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী বলেও মনে করে আইপিডি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্য সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে আইপিডি।

সংস্থাটি মনে করে, চলমান ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। অতীতে অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করে পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করেছে। নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এই অচলাবস্থা দূর করা সম্ভব নয়।


বিজ্ঞাপন


আইপিডি বলছে, সিটি করপোরেশনে মেয়রের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দিলেও কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা স্বাভাবিক হবে না। বাস্তবে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকেই জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো মেরামতসহ অধিকাংশ সেবা প্রদান করা হয়। কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে এসব সেবা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, ফলে নগরবাসীর দৈনন্দিন ভোগান্তি বাড়ছে। কোনো অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধির বিকল্প হতে পারে না বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

একইসঙ্গে স্থানীয় সরকারকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নির্বাচিত সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি। সংস্থাটির মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্দলীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা গণতন্ত্রের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইপিডি আরও বলেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। বিগত সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সন্তোষজনক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনেই স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইপিডি বলেছে, নির্বাচন বিলম্বিত করা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।

সরকারের প্রতি আইপিডির আহ্বান—
১. সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ সব পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
২. দলীয় প্রতীকমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
৩. অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত পরিসরে রাখতে হবে।
৪. স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় ও গণমুখী চরিত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৫. স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রেখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিডির মতে, স্থানীয় সরকারকে নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় ফিরিয়ে না আনলে টেকসই উন্নয়ন, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা এবং কার্যকর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর