বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩, বাকি ৬ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

gas
জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রামের সেই বাসাটার চিত্র। ছবি- সংগৃহীত

চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) ও ছেলে শাওন (১৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্নের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামির আহমেদ সুমনের (৪০) মৃত্যু হয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


এ নিয়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা তিনজনে দাঁড়ালো। ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। দগ্ধ বাকি ছয়জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকে এসি মসজিদ সংলগ্ন ছয়তলা ভবন হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় গ্যাসের বিস্ফোরণের এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে দগ্ধ হন— মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন (১৬) মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন (৪০), তার স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩৫), মেয়ে আয়েশা (৪), ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন হোসেন (৩০)।

বিস্ফোরণে শিশুসহ দগ্ধ নয়জনকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরের পর তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন দগ্ধ সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন। 

তিনি জানান, তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে। সাখাওয়াত হালিশহরে মোটর পার্টসের ব্যবসা করেন। তার ভাই সামির আহমেদ সুমন পর্তুগাল প্রবাসী। চলতি মাসের ৪ তারিখ দেশে এসেছেন। ১৮ তারিখে সুমন পরিবার নিয়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় যান চিকিৎসার জন্য। আরেক ছোট ভাই শিপন হালিশহরেই থাকেন। 

তিনি আরও জানান, সোমবার ভোরে তারা সেহরী খান। এর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে। জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।

বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে নয়জনকে ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ দগ্ধ শাওন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা যান। 

এর আগে ১০০ শতাংশ দগ্ধ নুরজাহান আক্তার রানীকে সন্ধ্যার পর জরুরি বিভাগে মৃত ঘোষণা করা হয়। আজ দুপুর ১২টার দিকে সামির আহমেদ সুমনের মৃত্যু হয়। তার শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল, তার ইনহেলিশন ইনজুরি ছিল।

বাকি ছয়জনের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেনের শরীরের ১০০ শতাংশ, মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ, পাখির ১০০ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ, আনাসের ৩০ শতাংশ এবং শিপনের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসাটিতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কোনো কারণে চুলা থেকে হয়তো গ্যাস লিক হয়েছিল, যার কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে দগ্ধদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

এর আগে দগ্ধদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজ খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এএইচ 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর