সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জাপানের শ্রমবাজারে অন্যদের আগেই জায়গা নিতে চাই: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪১ এএম

শেয়ার করুন:

জাপানের শ্রমবাজারে অন্যদের আগেই জায়গা নিতে চাই: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, জাপানের সম্ভাব্য শ্রমবাজার ধরতে এখন থেকেই ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে। জাপানে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে দ্রুত ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


এর আগে গতকাল (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের ২০টি কার্যক্রম সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জনগণের সমর্থনে গৃহীত এ ইশতেহার এখন জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। তাই ইশতেহার বাস্তবায়নে কী ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা নির্ধারণেই এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশেষভাবে উঠে আসে জাপানের শ্রমবাজারের সম্ভাবনা। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে আলোচনায় জানানো হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ যুবশ্রেণির শ্রমশক্তির প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে। এ বাস্তবতায় অদক্ষ শ্রমশক্তিকে দক্ষ ও আধা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


বিজ্ঞাপন


আলোচনায় বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ মূলত অদক্ষ শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। এ অবস্থান থেকে বের হয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী রফতানির ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে জাপানে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে যেসব ট্রেডে কর্মীর চাহিদা বাড়ছে, সেসব ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ লক্ষ্যে আগে ৩৩টি টিটিসিতে জাপান-সম্পর্কিত ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন জাপানের চাহিদা বিবেচনায় আরও ২০টি যুক্ত করে মোট ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। তবে জাপানি ভাষার শিক্ষকের ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে আসে। কীভাবে দ্রুত আরও শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া দেশের প্রায় ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জনশক্তি রফতানিকারক এজেন্সিগুলোর সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় কর্মকর্তারা বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর আগেই শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কয়েকটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। দুই কর্মদিবস পর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া জাপানে জনশক্তি প্রেরণ, প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত অংশীজন, শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে শিগগিরই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশমালা তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।

সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আওতাধীন দফতর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর