শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

পলের চোখে জিয়া উদ্যান, মুখে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের গল্প

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

পলের চোখে জিয়া উদ্যান, মুখে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের গল্প

দুপুর ঘড়ির কাঁটায় তখন ২টা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার গেটের মুখে এক সাদা চামড়ার ব্যক্তি। হঠাৎ তার দিকে চোখ আটকে গেল। তিনি দাঁড়িয়ে জিয়ার মাজারের ছবি তুলছিলেন। ছবি তোলা শেষ হলে কাছে গিয়ে পরিচয় জিজ্ঞেস করতে জানালেন, তিনি বেলজিয়াম থেকে এসেছেন। একজন দর্শনার্থী। তার নাম পল। বয়স আনুমানিক ৫০ এর ওপরে হবে।

তিনি জানান, তিনি ২০ দিনের অনুমতি সাপেক্ষে (ভিসার মেয়াদ) বাংলাদেশে এসেছেন। থাকবেন আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক জায়গাগুলো তিনি ঘুরে ঘুরে দেখছেন। তারই অংশ হিসেবে সেখানে এসেছেন। কিন্তু শেষ দিকে তার কথায় চমক লাগালেন। 


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও জানান, তিনি জানেন যে এই উদ্যানে দুই ব্যক্তির কবর রয়েছে। তারা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার বাবা-মা। প্রায় আধা ঘণ্টা পুরো মাজার ঘুরে ঘুরে দেখেছেন আর ছবি তুলেছেন।

শনিবার দুপুরে তার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখনো জিয়ার মাজারে লোকজন আসছে আর শ্রদ্ধা জানিয়ে একে একে চলে যাচ্ছে। তবে ছুটির দিন থাকায় অধিকাংশ লোকজন এসেছিলেন উদ্যানের সবুজ প্রকৃতি দেখতে ও ঘুরতে। তারই ফাঁকে তারা জিয়ার মাজারের কাছে যাচ্ছেন, কেউ কবর জিয়ারত করছেন। আবার কেউ কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে যাচ্ছেন।

পরে সেখান থেকে পলের সঙ্গে লেকের পশ্চিম ধারে একটি গাছের নিচে বসে অনেকক্ষণ কথা হয়; বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলো তার চোখে কেমন লেগেছে এই বিষয়ে।

কথার শুরুতে পল জানালেন, কুয়াকাটার কথা। বেলজিয়ামের উচ্চারণে ‘কুয়াটাকাটা’ বলছিলেন বেশ ভালো লাগছিল শুনতে।


বিজ্ঞাপন


তার মতে, তিনি বরিশাল শহর, লালবাগ, আহসান মঞ্জিল ঘুরেছেন। আগামীকাল যাবেন সিলেটের শ্রীমঙ্গলে। সেখানে একটি চা বাগানের প্রজেক্ট ঘুরবেন। তবে তিনি একাই এই দেশে এসেছেন। ফলে কোনো কিছু পরিকল্পনা করে আসতে পারেননি।

পল কথার মাঝে জানালেন, তিনি ঢাকায় গত ১৭ দিন থেকে অবস্থান করছেন। কিন্তু জিয়ার মাজার এলাকায় এসে তার ভীষণ শান্তি লাগছে। যদিও তখন মাথার ওপর গনগনে সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, টুডে ইজ ভেরি হট; বাট হিয়ার আই ফিল কোল্ড।

ZU2

তার কথায় বোঝা গেল তিনি যে গাছের নিচে বসেছেন সেখানে স্নিগ্ধ বাতাস প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। আরও জানালেন, জিয়া উদ্যানের সবুজ প্রকৃতি তাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে লেক, লেকের ওপর নির্মিত ব্রিজ ও জিয়ার মাজারের নান্দনিক অবয়ব। 

কথার ফাঁকে তিনি জানালেন, তিনি কুয়াকাটা, লালবাগ ও আহসান মঞ্জিল ছাড়াও যে বরিশাল শহরে গড়ে ওঠা নান্দনিক মসজিদ দেখেছেন। যা তার মোবাইলে ধারণ করা হয়েছে।

বুঝতে বাকি রইল না পল দেশের কিছু ঐতিহাসিক স্থান ঘুরেছেন। মোবাইলে ধারণকৃত লালবাগ কেল্লার ছবি দেখিয়ে বললেন নাইস বিউটিফুল। তিনি যখন বরিশালের গুটিয়া মসজিদটি দেখাচ্ছিলেন তখন তার চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস। ছবিতে মসজিদটি দেখিয়ে বারবার বলছিলেন বিউটিফুল।

পরে পলের কাছে জানতে চাওয়া হলো তিনি কক্সবাজার ও সুন্দরবন বেড়াতে গেছেন কিনা? তার উত্তর ছিল না। পরে এই দুই জায়গা সম্পর্কে যখন তাকে বিস্তারিত বলা হলো তিনি জানালেন এবার আরও সময় নিয়ে আবারও বাংলাদেশে আসবেন। তখন তিনি হাতে সময় নিয়ে এসব স্থান ছাড়াও বিভিন্ন স্থানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখবেন।

ZU

পলের কথায় উঠে এসেছে, ঢাকা সুন্দর শহর। তবে আরও গাছগাছালি থাকলে ভালো হতো।

কথা শেষ হওয়ার আগে জানালেন তিনি সেখান থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে যাবেন। কিন্তু হলি ডে থাকায় ঢুকতে পারবেন কিনা সন্দেহ পোষণ করলেন। এরপর নিজেই সেখান থেকে পায়ে হেঁটে রওনা হলেন সংসদ ভবনের দিকে। 

এমআইকে/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর