মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আজ পরিণত হয়েছে শ্রদ্ধা, স্মরণ আর নীরব আবেগের মিলনমেলায়। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। একের পর এক দল এসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছে। একদল নিবন্ধন শেষে সরে গেলে সেই স্থান নিচ্ছে নতুন কেউ।
শ্রদ্ধা নিবেদনের এই দীর্ঘ লাইনে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় খেলাঘর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ আউটসোর্সিং অ্যাসোসিয়েশন, জনতা ব্যাংক, বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, স্বপ্নধারা শিল্প কল্যাণ সংস্থা, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, সাধারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাতীয় জাদুকর কর্মচারী পরিষদ, বাংলাদেশ বিমান অফিস অ্যাসোসিয়েশন, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, সাধারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাতীয় জাদুকর কর্মচারী পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংসদসহ দুই শতাধিক সংগঠনকে।
বিজ্ঞাপন
শহীদ মিনারের মূল প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সারি গড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি, নীলক্ষেতসহ আশপাশের এলাকায়। হাতে ফুল, ব্যানার আর কালো ব্যাজ নিয়ে অপেক্ষমাণ মানুষের মুখে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও গর্বের ছাপ। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে, কেউ বা সঙ্গীদের সঙ্গে ভাষা শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করছেন।
প্রাঙ্গণে ভেসে আসছে প্রভাতফেরির গান, মাইকে উচ্চারিত হচ্ছে একুশের অমর বাণী। শিশু-কিশোর থেকে প্রবীণ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবী, সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে শহীদ মিনার যেন হয়ে উঠেছে জাতির সম্মিলিত চেতনার প্রতীক। ফুলে ফুলে ঢেকে যাচ্ছে শহীদ বেদি, আর প্রতিটি পুষ্পস্তবক যেন জানিয়ে দিচ্ছে একই অঙ্গীকার, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই ইতিহাস বাঙালির হৃদয়ে অম্লান।
বিজ্ঞাপন
শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন সমন্বয়ে। শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সংগঠনগুলো নিবন্ধন সম্পন্ন করে শহীদ বেদিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, তারপর জায়গা করে দিচ্ছে পরবর্তী দলকে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মানুষের ঢল, তবে আবেগ আর নীরবতার সেই সুর অটুট।
এমআর/ক.ম

